বগুড়ায় নেই সার সংকট। জেলায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার মজুদ রয়েছে। ফলে চাষীরা মাঠে মাঠে এখন আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলায় সময়মতো সার পাওয়ায় বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছেন চাষীরা। কৃষি অফিস বলছে, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টন চাল পাওয়া যাবে।

জানা যায়, বগুড়ায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৩০ হেক্টর। এর মধ্যে এবার জেলায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শতভাগ জমিতে রোপণ আবাদ সম্পন্ন হবে বলে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মাঠে মাঠে চাষীরা আমন চাষের পর এখন নিড়ানি ও আগাছা পরিষ্কার করছেন। রোপণকৃত জমিতে প্রায় ৭৫ ভাগ ইউরিয়া সারের প্রয়োগ চলছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ দুলাল হোসেন জানান, সারের কোনো সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে নিয়মিতভাবে সার মাসের শুরুতেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলায় আগস্ট মাসে ইউরিয়া ৯ হাজার ৩৫৫ টন, টিএসপি ১ হাজার ৫০৭, এমওপি ১ হাজার ৫৮৯ এবং ডিএপি ২ হাজার ১২৫ টন সার বরাদ্দ ছিল। ডিলাররা সার উত্তোলনের পর বর্তমানে জেলায় ইউরিয়া সার ১ হাজার ২০৫ টন, টিএসপি ৮৯০, এমওপি ৫৭০ এবং ডিএপি ১ হাজার ৯৫৬ টন সারের মজুদ রয়েছে। গত বছর আমন মৌসুমে সমপরিমাণ জমিতে একই রকম সার বরাদ্দ ছিল। চলতি বছরও একই পরিমাণ সার বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও এ বছর জেলায় অতিরিক্ত ২ হাজার টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া ৬ হাজার ৭১৩ টন, টিএসপি ১ হাজার ৬০, এমওপি ১ হাজার ৫৯৪ এবং ডিএপি ২ হাজার ২৩১ টন সারের বরাদ্দ পাওয়া যাবে। ফলে ফসলের জন্য সারের কোনো সংকট থাকছে না বগুড়ায়।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আমন চাষী মো. আমিনুর রহমান জানান, সময়মতো সার পাওয়া গেছে। গত বছরও ভালো ফলন পেয়েছি, এবারো ভালো ফলনের আশায় খেত পরিচর্যা চলছে। শাজাহানপুর উপজেলার আমনচাষী সোহেল রানা বলেন, সার নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, আমরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছি। ফলে আবাদ করা জমির পরিচর্যা নিয়ে কোনো সংকটে পড়তে হচ্ছে না কৃষককে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক জানান, সারের কালোবাজারি ও সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিতকল্পে জেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় সারের মজুদ সন্তোষজনক। কৃষক আতংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের পাশে রয়েছে। কোনো সার ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।