হেমন্তের শুরুর দিকেই দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছিল শীতের আমেজ। হেমন্তের মাঝামাঝি অর্থাৎ কার্তিকের শেষের দিকে এসে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। গতকাল তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের রোববার তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলিসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস বলছে, হিমালয়ের কাছের এ জেলায় বাড়তে শুরু করেছে শীত। মাঝে মাঝে গ্রামাঞ্চলে রাতের বেলায় ঘন কুয়াশা দেখা দিচ্ছে। ভোর পর্যন্ত স্থায়ী হয় কুয়াশা। তবে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। ২০ নভেম্বর থেকে পুরোপুরি শীতের আমেজ শুরু হতে পারে। কয়েকদিন থেকে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও বিরাজ করছে এ জেলায়। গতকাল সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে ৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৮ ও সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ৪ নভেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ দশমিক ২। ওইদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৭। ৫ নভেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ২ ও সর্বনিম্ন ১৮ দশমিক ৫। ৬ নভেম্বর সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ৮ ও সর্বনিম্ন ১৮ দশমিক ৯। ৭ নভেম্বর সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ৯, সর্বনিম্ন ১৯ দশমিক ৮। ৮ নভেম্বর সর্বোচ্চ ৩১ সর্বনিম্ন ১৭ দশমিক ১ এবং ৯ নভেম্বর সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ২, সর্বনিম্ন ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় ঘন কুয়াশা দেখা দিয়েছে। তবে কুয়াশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। ২০ নভেম্বরের পর থেকে পুরোপুরি শীত পড়তে পারে। তাপমাত্রা কমে গিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় পঞ্চগড়ে শীতের আগমন ঘটে কিছুটা আগেভাগে। শীত বিদায়ও নেয় দেরিতে। হেমন্তের মাঝামাঝি এ সময়টাতে সন্ধ্যা নামলেই অনুভূত হচ্ছে শীত। কয়েক দিন ধরে রাত বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। রাতে কাঁথা-কম্বল গায়ে জড়িয়ে ঘুমাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেলাজুড়ে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা থাকলেও সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাচ্ছে। নদ-নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বেশি ঠাণ্ডা অনুভব হচ্ছে। তবে জনজীবনে এখন পর্যন্ত শীতের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।