কয়েক বছর ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী  আম পাড়া ও বাজারজাত করা হতো চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কিন্তু এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেনি আমবিষয়ক জেলা টাক্সফোর্স কমিটি। ফলে গাছে যখন আম পাকবে, তখনি বাজারজাত করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ আর আমের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আম পাকতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমচাষীরা। একদিকে আমের ফলন কম আর ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কিত আমবাগানিরা। তবে প্রশাসন আম বাজারজাতকরণের নির্ধারিত সময় বেঁধে না দেয়ায় খুশি বাগানিসহ ব্যবসায়ীরা।

আমচাষী আব্দুল মালেক জানান, এবার বাগানের বড় গাছে মুকুল কম হওয়ায় গাছগুলোয় ফলন কম। ছোট গাছের বাগানগুলোয় আম আছে। আমের বাগানগুলোয় গত বছরের চেয়ে অর্ধেক আম আছে। গুটি জাতের কয়েকটি গাছে আম পাকতে দেখা গেছে। পরিপূর্ণভাবে এখনো পাকেনি। গোপালভোগ আম পাকতে আরো ১০-১৫ দিন সময় লাগবে।

শামসুল নামের আরেক আমচাষী বলেন, প্রথম দিক থেকে আবহাওয়া আমের বিপরীত দিকে যাচ্ছে। মাঝে একদিন শিলাবৃষ্টি হওয়ায় আমের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তারপর থেকে কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টি। আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকায় আম পাকতে সময় লাগছে। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকত তাহলে বাজারে আম নেমে যেত।

আম বেচাকেনার সময় নির্ধারণ না করায় খুশি বাগানমালিক শামসুল আলম জানান, বিগত বছরগুলোয় আম বাজারজাত করতে সময় বেঁধে দিত প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ে বাজারে আম নামানোর আগেই অনেক আম গাছে পচে যেত। এখন সময়সীমা না থাকায় যখনিই আম পাকবে তখনিই বাজারজাত করতে পারব।

আম ব্যবসায়ী মুনিরুল ইসলাম জানান, প্রশাসন আম বেচাকেনার সময় নির্ধারণ না করায় বেশ খুশি হয়েছি। বাইরের জেলার ব্যাপারীরা যেন সঠিক সময়ে আম কিনতে আসেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এবার মৌসুমে আম বাজারজাত করতে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। যখনিই বাগানের গাছে আম পাকবে, তখনিই বাজারজাত করতে পারবেন আম ব্যবসায়ীরা। তিনি আরো বলেন, চাষীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে অপরিপক্ব আম বাজারে তুললে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।