তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রিতে পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে এলপি গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের সময় একই আদেশ জারি করা হলেও তা যথাযথভাবে পরিপালন করেনি বিক্রেতারা। এ অবস্থায় মূল্য প্রদর্শনের জন্য নতুন করে একটি ফরমেট তৈরি করেছে কমিশন। ফরমেটটি কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে।
প্রতি মাসেই এলপি গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করে থাকে বিইআরসি। যদিও পরিবেশক থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত সরবরাহ চেইনের প্রতিটি স্তরে এ মূল্য মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিশন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০০-২০০ টাকা বেশি দামে প্রতি সিলিন্ডার এলপি গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
এ বিষয়ে কমিশন বলছে, গ্রাহকরা যাতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সেজন্য এ ফরমেট চালু করেছে কমিশন। এলপি গ্যাস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোয় এ মূল্য তালিকা থাকতে হবে। কমিশনের সদস্য মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতি মাসে এলপি গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের সঙ্গে মূল্য প্রদর্শনের আদেশ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বিক্রেতারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ আদেশ মানছেন না। যদিও শুরু থেকে আমরা এ বিষয়ে বলে আসছি। নতুন করে কমিশনের ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কিত একটি ফরমেট দেয়া হয়েছে, যাতে তারা এটি বাস্তবায়ন করে। যারা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, বোতলজাতকৃত এলপি গ্যাসের মূল্য প্রদর্শনের ফরমেটে বিইআরসি আদেশ নম্বর, কত তারিখে আদেশ দেয়া হয়েছে সেটি উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। ফরমেটে খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে সাড়ে পাঁচ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ৪৫ কেজি সিলিন্ডার পর্যন্ত কত টাকায় বিক্রি হবে, তা উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে অটোগ্যাস ব্যবসায়ীদেরও এ মূল্য প্রদর্শন করতে হবে। ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের লিটারপ্রতি মূল্যও উল্লেখ করতে হয়েছে ফরমেটে। রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহকৃত এলপিজির মূল্য প্রদর্শনেরও কথা বলা হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সরকারি ও বেসরকারি এলপি গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের কাজ করছে কমিশন। সৌদি আরামকোর কাছ থেকে কেনা মূল্যের ভিত্তিতে দেশের বাজারে প্রতি মাসের শুরুতে এ মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।
এলপি গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দেয়ার বিষয়ে কমিশন থেকে বারবার জানানো হলেও বেশির ভাগ পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা এ আদেশ মানছেন না। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, রামপুরাসহ অন্তত ১৫-২০টি এলাকা ঘুরে এলপি গ্যাসের খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকানে কমিশনের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি। রাজধানীর বাইরে, যশোর, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ ৮-১০ জেলায় বিক্রেতাদের দোকানেও এ ধরনের কোনো মূল্য তালিকা দেখা যায়নি।
অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়েও এ-সংক্রান্ত সুস্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান, এ বিষয়ে তারা আদতে কিছুই জানেন না।










