ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কুড়িগ্রামের সোনাহাট সেতুর বিভিন্ন স্থানের পাটাতন ভেঙে গেছে। ট্যাংক জাম (লোহার পাতি) খুলে গেছে। এ অবস্থায় যানবাহনগুলো অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই সোনাহাট স্থলবন্দরের পণ্য আনা নেয়া করছে। তবে সেতুটি ঝুঁকিমুক্ত করতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এজন্য ১৩ দিন বন্ধ থাকবে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। গতকাল থেকেই যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গুয়াহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। সে সময় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। ১৯৪৭ সাল থেকে সেতুটি দিয়ে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রবেশ ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেয়া হয়। ১৯৮৬ সালে সেতুটি মেরামত করে ভুরুঙ্গামারী দক্ষিণের তিন ইউনিয়ন ও কচাকাটা এবং মাদারগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সচল করা হয়। তখন থেকেই এটি সড়ক সেতু হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। সে হিসাবে সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই।
এদিকে সেতুটির পাশে দুধকুমার নদের দক্ষিণে ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার লম্বা পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। সেতুর নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হলেও অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুর প্লেটগুলো আগের থেকে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এগুলো মেরামত করা হবে। দুর্ঘটনা এড়াতেই সংস্কারের জন্য প্রতিদিনের নির্ধারিত সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হয়ে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিকভাবেই করতে পারবে।’










