জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির
প্রস্তাব পাস কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্ক অবনতির পথে। মূলত সোমবার (২৫ মার্চ) জাতিসংঘে
গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ হন নেতানিয়াহু। খর
রয়টার্স।
যুদ্ধবিরতির ওই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র
ভেটো দেয়নি। যে কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। ওই প্রস্তাবের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবাদস্বরূপ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের যুক্তরাষ্ট্র সফর
বাতিল করেছেন নেতানিয়াহু। ওই বৈঠকে গাজার রাফায়
স্থল আক্রমণ পুনর্বিবেচনা নিয়ে আলোচনার কথা ছিল বলে জানা গেছে। বৈঠক স্থগিত হওয়ায় রাফায়
অভিযান বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
পাসের পরও রাফায় অভিযানের সিদ্ধান্তে স্থির ইসরায়েল। বাইডেনের অনুরোধ অমান্য করে রাফায়
হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় বিধিনিষেধ আরোপিত হতে পারে—এমন আশঙ্কায়
উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলের।
কয়েকদিন আগেই এমএসএনবিসিকে
দেয়া সাক্ষাৎকারে বাইডেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইসরায়েল রাফায় আক্রমণ করলে তা হবে ‘রেডলাইন
ক্রস’ করার
মতো বিষয়।
রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক
প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক মধ্যস্থতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, এর ফলে
(রাফায় হামলা চালালে) বাইডেন এবং নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। খুব সাবধানতার সঙ্গে বিষয়টি না সামলাতে পারলে পরিস্থিতি
আরো খারাপ হতে পারে।
দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলকে সমর্থন
দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এবার গাজায় যুদ্ধবিরতিতে ভেটো না দেয়াকে ইসরায়েলের
বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঞ্জীভূত হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট
পদে পুনরায় লড়ছেন বাইডেন। এ নির্বাচন ঘিরে শুধু আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছ থেকেই
নয়, তার দল ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকেও গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছেন বাইডেন।
অন্যদিকে গাজা ইস্যুতে নিজ
দেশে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন নেতানিয়াহুও। তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ
করছেন ইসরায়েলিরা। জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসছেন বিক্ষুব্ধরা।









