শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের নামে ৬১ লাখ ২১ হাজার ৬শ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উচ্চ দর দেখিয়ে মালামাল সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কমিশনের নামে টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পার্চেজ অ্যান্ড স্টোর ডিভিশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অ্যান্ড ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম (শ্রাবন) এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। উপপরিচালক রাশেদুল ইসলাম গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (সজেকা) মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, হাসপাতালে মালামাল সরবরাহকারী চারটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মচারী ও সুপারভাইজারের কাছ থেকে ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে কমিশনের নামে টাকা আত্মসাৎ করেছেন শহীদুল ইসলাম। হাসপাতালের ব্যবহার্য সামগ্রী ক্রয়ের দায়িত্ব পেয়ে শহীদুল ইসলাম অনিয়মের মাধ্যমে এসব টাকা আত্মসাৎ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তদন্তেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহীদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রতিনিধি হিসেবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে উচ্চ দর দেখাতেন।

২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের আনুমানিক একশর বেশি তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী ও ঠিকাদার ছিলেন। যারা কোটেশনের মাধ্যমে অথবা সরাসরি মালামাল সরবরাহ করতেন।

শহীদুল ইসলাম সিন্যাপস ইন্টারন্যাশনাল, মাহিবা সার্জিক্যাল অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, জেনোমেড ও ব্যাকবোন নামের প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মচারী ও সুপারভাইজার থেকে কমিশনের নামে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়েছেন। সেসব টাকা তার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দুটি শাখায় জমাও হয়েছে।

শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ২ মে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের সিইও স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়। তিনি ৭ মে তার লিখিত বক্তব্য দেন। ওই দিনই তদন্ত কমিটি গঠন করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি ১৩ মে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ১৪ মে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পিপিটি প্রজেক্টের অধীনে যৌথভাবে নির্মিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে মালয়েশিয়ার কেপিজে হেলথকেয়ার বেরহাদ।