জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগকে প্রদত্ত কথিত ঈদ সেলামির হদিস পায়নি শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর। শুধু ব্যাংক হিসাব লেনদেন যাচাই করে এই অডিট পর্যালোচনা করা হয়।
শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দেয়া এক চিঠি সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগ ও সংবাদ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনঃঅডিটকালে এটি সম্পন্ন হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘ব্যাংক হিসাবের লেনদেন যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পওয়া যায়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালের আগস্টে ঈদুল আজহার আগে তত্কালীন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের মধ্যস্থতায় ছাত্রলীগকে ২ কোটি টাকা ঈদ সেলামির নামে প্রদান করা হয়। পরে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা অধ্যাপক ফারজানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসংবলিত কালো বই বের করেন। যেটি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, শিক্ষামন্ত্রীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রেরণ করা হয়।
শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের অডিটকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৯ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের প্রথম বরাদ্দ হিসেবে ৫ কোটি টাকা ছাড় হয়। সেখান থেকে কনসালট্যান্ট সম্মানী, পিকআপ ক্রয়, অফিস সরঞ্জাম ক্রয়, ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ বাবদ ২ কোটি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাকি ২ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা একই বছরের ৩০ অক্টোবর ২৩৭ নম্বর চালান মূলে সরকারি কোষাগারে জমা রাখা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় আরো দাবি করে, ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, প্রকল্প থেকে কোনো ঈদ সালামি প্রদান করা হয়নি। পাশাপাশি অডিট পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যকে সমর্থন জানানো হয়।
অন্যদিকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত উপেক্ষা করে অডিট পর্যালোচনা হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এ বিষয়ে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, দুর্নীতিসংক্রান্ত যেসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপিত হয়েছে তার ভিত্তিতে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছিলাম, কেননা শুধু ব্যাংক স্টেটমেন্ট পর্যালোচনার ভেতর দিয়ে এ রকম একটি গুরুতর বিষয়ে প্রমাণ করা যায় না। বরং এখানে আমলে নেয়া উচিত ছিল যারা ঈদ সেলামি পেয়েছেন বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন তাদের কথা, কল রেকর্ড ও অন্যান্য সহযোগী তথ্য।
তিনি আরো বলেন, ইউজিসি কর্তৃক গঠিত কমিটির তদন্ত করার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা হয়নি বলে জানানো হয়। কিন্ত এর মাঝেই রাজশাহীতে তদন্ত হয়েছে। আমরাও একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী তদন্ত দাবি করছি।
অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, প্রকল্প থেকে কাউকে কোনোভাবে অর্থ দেয়ার সুযোগ নেই। কাউকে ঈদ সেলামিও দেয়া হয়নি। অডিট পর্যালোচনায় সেটিই উঠে এসেছে।










