জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য করা হচ্ছে। আবারো হল দখলের পাঁয়তারা চলছে। ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আফতাবনগরের সিরাজ কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় ছাত্রশক্তি সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘ফ্রম রেজিস্টেন্স টু ভিক্টোরি: লেগেসি অব জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ প্রতিনিধি, ছাত্রশক্তির নেতৃত্বের ওপর হামলা করা হয়েছে। ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদরাসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে ছাত্রদল ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। হবিগঞ্জে আমাদের ভাই আলিফের চোখ উপড়ে ফেলেছে।
সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় জড়াবেন না। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে দিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখুন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন। এ সরকার মনে করছে, তারা ক্ষমতায় আছে, সব দখল করবে। এটা শেখ হাসিনা ভেবেছিল, এর পরিণতি আপনারা দেখেছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা তুলে ধরে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। সে সময় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছিল গণঅভ্যুত্থানের ট্রাম্প কার্ডের মতো। স্বৈরাচার সরকার ভাবতেই পারেনি, প্রাইভেটের শিক্ষার্থীরা এভাবে নেমে আসবে। ১৭ জুলাই দমন পীড়নের পর সবাই ভেবেছিল, আন্দোলন আর সামনে এগিয়ে নেয়ার মতো কেউ নেই। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়ের আত্মত্যাগকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। প্রাইভেটের ভূমিকার স্বীকৃতি প্রয়োজন। ডকুমেন্টেশন প্রয়োজন। দুঃখের বিষয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এ সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব রাফে সালমান রিফাত, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার প্রমুখ।










