তিন দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দুপুরে একদফা লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার কিছুক্ষণ পরই তারা সেখানে জড়ো হন। বিকালে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরও কয়েকশ শিক্ষক–শিক্ষার্থী। রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীনও।

রাত ১০টার সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কাকরাইল মসজিদ মোড় ও প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন তারা।

তিন দফা দাবি নিয়ে এদিন দুপুরে জবি ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও দপ্তর যমুনা অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করে। মিছিলটি শাঁখারি বাজার, রায়সাহেব বাজার, তাঁতি বাজার, বংশাল মোড় হয়ে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে এলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। ওই ব্যারিকেড ভেঙে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে এলে তারা আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। তবে বাধা উপেক্ষা করে সচিবালয়, শিক্ষা ভবন, হাই কোর্ট, মৎস্য ভবনের মোড়ের বাধা উপেক্ষা করে কাকরাইল মসজিদের সামনে আসেন তারা।

মিছিলটি প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে এলে সেখানে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অনেকে আহত হন। অনেককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর দুপুর ২টার দিকে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী কাকরাইল মোড়ে এসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকালে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরো কয়েকশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তারা সবাই নিজেদের দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

জবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব লিমন জানান, আমরা যৌক্তিক আন্দোলন নিয়ে যমুনার অভিমুখে লংমার্চে যাওয়ার সময় পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক- সবার ওপর লাঠিচার্জ এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আমাদের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর গুরুতর রক্তাক্ত এবং বেশ কয়েকজনের হাত ভেঙে গেছে। পুলিশ যেভাবে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, জুলাই আন্দোলনেও এভাবে আঘাত করেনি। আমাদের নারী শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ওপরেও হামলা চালিয়েছে। আমরা অনতিবিলম্বে এ ঘটনায় যারা দোষী তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান ধরে রেখেছেন।