ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। ফলে সামান্য অসুস্থ হলেই ওষুধসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী কিনতে বেগ পেতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতে ‘প্রয়োজনে আমরা’ নামে ই-মেডিসিন সেবা চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই গুটিকয়েক তরুণ উদ্যোক্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত ফেসবুকে বা হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ (ক্ষুদে বার্তা) পাঠিয়েই হলে পৌঁছে যাবে ওষুধ।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ‘প্রয়োজনে আমরা’ একটি ই-কমার্সভিত্তিক ব্যবসায় উদ্যোগ। যার মাধ্যমে নাম মাত্র সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে সকল প্রকার ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত পণ্য ও সৌন্দর্যবিষয়ক পণ্যও। এ সেবা পেতে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের মেসেঞ্জারে অথবা হোয়াটস অ্যাপে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন অথবা প্রয়োজনীয় ওষুধের নাম পাঠালে করলেই সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে ওষুধ পাওয়া যাবে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি লাঘব হবে।
‘প্রয়োজনে আমরা’- এর মূল উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী মাহিনুর রহমান। তাকে সহযোগিতা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী মামুন, ইকরা হাপি, রিধি হাসান, মাহবুব হাসান ও আব্দুল্লাহ আল নোমান।
এ বিষয়ে মাহিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পর থেকেই সৃষ্টিশীল কিছু করার চিন্তা ছিল। তাই দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন ২০২০ সালে প্রথম ই-মেডিসিন সার্ভিস শুরু করি। কিন্তু অভিজ্ঞতা, উৎসাহ ও অর্থের অভাব টিকিয়ে রাখতে পারিনি। পরে কভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী ২০২১ সালের ২১ মার্চ সৃষ্টিশীল বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে নতুন করে শুরু করি। ক্ষুদ্র পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু করলেও আর্থিক সহযোগিতা ও উৎসাহ পেলে এই সেবার আওতা ও পরিসর বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে।’
সার্ভিস চার্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি নির্ভর করবে ওষুধের মূল্যের ওপর। কাঙ্ক্ষিত সামগ্রীটির দাম ৫০ টাকা বা এর নিচে হলে সার্ভিস চার্জ ১০ টাকা; এবং ৫০ টাকার বেশি হলে ২০ টাকা। তিনি আরও বলেন, ওষুধ আনতে একজন শিক্ষার্থীকে আসা-যাওয়ায় কমপক্ষে ৪০ টাকা রিকশা ভাড়া দিতে হয়। সময় ব্যয়ের পাশাপাশি অসুস্থ অবস্থায় ফার্মেসিতে যাওয়া-আসাও কষ্টকর। এক্ষেত্রে আমরা পরিবহন খরচের অর্ধেক টাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবারহ করবো। কারণ আমাদের নিজস্ব সাইকেলে করে সার্ভিস দেব এবং অসুস্থ ব্যক্তি রুমে বসেই সেবা পাবে। আমাদের মূল লক্ষ্য দৈনন্দিন জীবনকে আরাও বেশি সহজ ও আরামদায়ক করে তোলা ‘
এদিকে ‘প্রয়োজনে আমরা’ থেকে সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার দুইভাবে উপকৃত হবে। প্রথমত, শিক্ষার্থী-উদ্যোক্তারা ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হবে। দ্বিতীয়ত, স্বল্পমূল্যে সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপকৃত হবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু আন্তর্জাতিকভাবে একজন শিক্ষার্থী সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পান, সেহেতু সেবা প্রদানকারীদের পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়ারও ঝুঁকি নেই।’










