পরিবারের ইচ্ছে ছিল তৌকির ইসলাম সাগর সেনা কর্মকর্তা হবেন, কিন্তু তৌকিরের স্বপ্ন বৈমানিক হওয়ার। প্রশিক্ষণের সব ধাপ শেষে প্রথমবারের মতো একা প্রশিক্ষণ বিমান চালাবেন—এ খবরে পরিবারের সদস্যরাও ছিল আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। তবে সোমবার দুপুরের পর সেই বিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পান স্বজনরা। ঝরে যায় ২৭টি প্রাণ। তার মধ্যে রয়েছেন বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরও। সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় সব উচ্ছ্বাস। ওইদিন বিকাল পৌনে ৪টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান তৌকির।
গতকাল বিকালে সামরিক মর্যাদায় রাজশাহী নগরীর সপুরা কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে বেলা ১টা ৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর ৩টায় রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে তার কফিনবদ্ধ মরদেহ হেলিকপ্টারে করে আনা হয়। শেষ বারের মতো বৈমানিক সাগরকে দেখতে ছুটে আসেন পরিবার, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা। এ সময় নগরের উপশহর এলাকায় তৌকিরের বাড়ির সামনে হাজার লোকের সমাগম ঘটে। জনস্রোতের ভেতরে মরদেহ নামাতে না পেরে নিয়ে যাওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে। সেখানে পড়ানো হয় জানাজা।
জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন বৈমানিক তৌকিরের মামা ও বাবা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সবার কাছে নিজের ছেলের জন্য দোয়া চান এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন তৌকিরের বাবা।










