চার দশক আগে পোশাক কারখানা দিয়ে যাত্রা এনভয় গ্রুপের। শুরু থেকেই ব্যবসা এগিয়ে নেয়ার ভূমিকায় ছিলেন দুজন—প্রকৌশলী কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার আবদুস সালাম মুর্শেদী। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারিত্ব ও মালিকানায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন তারা। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী পরিবর্তনের এ প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
অংশীদারিত্ব ও মালিকানায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এখন এনভয়ের পর্ষদে রয়েছেন চারজন। মালিকানার পূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন আবদুস সালাম মুর্শেদী ও তার পরিবারের সদস্য। প্রায় ২২ হাজার কর্মীর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এখন শারমিন সালাম। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি। পর্ষদে শারমিন সালাম ও সালাম মুর্শেদী দম্পতির দুই সন্তান ব্যারিস্টার শেহরিন সালাম ঐশী ও ইশমাম সালাম রয়েছেন পরিচালক হিসেবে।
সূত্র জানিয়েছে, এনভয় গ্রুপের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে সব প্রক্রিয়া। অর্থ পরিশোধ থেকে শুরু করে নথিসংক্রান্ত সব কাজ শেষ হয়েছে। কাগজ-কলমের আনুষ্ঠানিকতার দলিলও স্বাক্ষর হয়ে গেছে।
বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে চান না আবদুস সালাম মুর্শেদী। তবে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, এটা বলতে পারি, এত শান্তিপূর্ণভাবে মালিকানা হস্তান্তর কেউ কোনোদিন করতে পারেনি। বড় করপোরেট হাউজগুলোর জন্য এটা অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। ২০-২২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয় এ গ্রুপে। আমার জন্য এটা বিশাল বড় একটা দায়িত্ব।
ব্যবসার প্রথম দিন থেকে একসঙ্গে ছিলেন এনভয়ের দুই কর্ণধার কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও আবদুস সালাম মুর্শেদী। গ্রুপের পর্ষদেও ছিলেন কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও আবদুস সালাম মুর্শেদীসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা মিলে আটজন। পর্ষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন প্রকৌশলী কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী। বাকি ছয়জন পরিচালকের মধ্যে ছিলেন রাশিদা আহমেদ, শারমিন সালাম, তানভীর আহমেদ, ব্যারিস্টার শেহরিন সালাম ঐশী, ইশমাম সালাম ও সুমাইয়া আহমেদ।
সূত্র জানিয়েছে, এনভয় গ্রুপের অংশীদারিত্বে পরিবর্তন এলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এনভয় টেক্সটাইলসের অংশীদারিত্বে থাকছেন কুতুবউদ্দিন ও সালাম মুর্শেদী দুজনই। বস্ত্র খাতে গ্রুপের ডেনিম প্রতিষ্ঠান এনভয় টেক্সটাইলসে যৌথভাবে অংশীদার থাকছেন তারা। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির নিয়মেই সেটা চলবে।
জানতে চাইলে মালিকানা ও অংশীদারিত্বে পরিবর্তন নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি কুতুবউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্য।
১৯৮৪ সালে পোশাক খাতের মাধ্যমে যাত্রা করা এনভয় গ্রুপের আওতায় রয়েছে এখন ৪০টি প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৪০ কোটি ডলারেরও বেশি।
জানা গেছে, খুলনা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর মালিকানাধীন এনভয়ের পোশাক কারখানাগুলো কাপাসিয়া, আশুলিয়া, দৌলতিয়া বাজার, ঢাকার রামপুরায় স্থাপিত। তার মালিকানায় আছে ডায়িং, কার্টন ও পলি কারখানাও। এছাড়া সালাম মুর্শেদী আছেন প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদে। ট্রেজার সিকিউরিটিজ ও ট্রাইস্টার নামে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানেরও লাইসেন্স রয়েছে সালাম মুর্শেদীর। এদিকে কাপাসিয়ায় ৫০ বিঘা জমির ওপর নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন সালাম মুর্শেদী। স্থাপন হচ্ছে এনভয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক।
চার দশকে একে একে গড়ে তোলা এনভয় গ্রুপের পোশাক কারখানা ইউনিটের মধ্যে রয়েছে এনভয় গার্মেন্টস, নাদিয়া গার্মেন্টস, এনভয় ডিজাইন, অ্যাস্ট্রাস গার্মেন্টস, রিগাল গার্মেন্টস, আরমার গার্মেন্টস, সুপ্রিম অ্যাপারেলস, ইপক গার্মেন্টস, প্যাসেল অ্যাপারেলস, ওলিও অ্যাপারেলস, ডর্নিক অ্যাপারেলস, ফন্টিনা গার্মেন্টস, মান্তা অ্যাপারেলস, এনভয় ফ্যাশনস ও টেক্সাস ড্রেসেস। ওয়াশিং বিভাগের ইউনিটটির নাম লন্ড্রি ইন্ডাস্ট্রিজ। টেক্সটাইলের ডেনিম কারখানাটির নাম এনভয় টেক্সটাইলস।
ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পিনাটা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, অ্যারো স্পিড ইন্টারন্যাশনাল, ওআইএ গ্লোবাল লজিস্টিকস। ট্রেডিং সংস্থাগুলো হলো এমারাল্ড ট্রেডিং, লুনার ইন্টারন্যাশনাল, বিজনেস সলিউশন সংস্থা ন্যাশনাল সিস্টেম সলিউশনস।
আবাসন ব্যবসায় এনভয় গ্রুপের প্রতিষ্ঠানটি হলো শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেড। নির্মাণ খাতে রয়েছে শেলটেক ইঞ্জিনিয়ারিং। আবাসন খাত উন্নয়ন, পরামর্শ, নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক ব্যবসায় শেলটেক দেশের শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানে কুতুবউদ্দিনের অংশীদারদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ছাড়াও আছেন প্রয়াত ড. তৌফিক এম সেরাজের পরিবারের সদস্যরা। ১৯৮৮ সালে যাত্রা করা শেলটেকে আবদুস সালাম মুর্শেদীর অংশীদারিত্ব নেই।
ব্যাংক খাতে এনভয় গ্রুপের অংশীদারদের উপস্থিতি রয়েছে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডে। প্লাটিনাম সুইটস ও প্লাটিনাম রেসিডেন্স নামে হসপিটালিটি খাতে ব্যবসা রয়েছে এনভয় গ্রুপের। ভোক্তাপণ্য খাতে বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ও বাণিজ্যিক অফিস স্পেস ব্যবসায় সিয়াম টাওয়ার নামে প্রকল্প রয়েছে তাদের। এছাড়া গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেড ও শেলটেক প্রটেকশন সার্ভিসেস লিমিটেড।










