খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া বাজার থেকে শহরের রায়েলমহল স্লুইস গেট পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার। তিন ধাপে ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে তা টেকসই হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫২৫ মিটার সড়ক সংস্কার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর দুই মাসেই সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিটুমিন সরে গিয়ে উঁচু-নিচু হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই ফের বেহাল হয়ে পড়ছে সড়কটি। সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম দফায় রায়েরমহলে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৬ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর ট্রেডার্স। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমে গর্তের সংখ্যা বেড়েছে, গর্তের আয়তনও বড় হয়েছে। এর পর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাকি সড়কের মধ্যে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার সংস্কার করা হয়। ৩ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ২৯১ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজটি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স। এ অংশের সংস্কারের ছয় মাসের মধ্যে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বিটুমিন উঠে সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাকি ৫২৫ মিটার সংস্কার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শওকত হোসেন। তবে দুই মাসেই সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।
সংস্কার ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি ৩ দশমিক ৭ থেকে ৫ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত চওড়া। তিন ভাগে সড়কটি সংস্কারে খরচ হয়েছে ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এত টাকা ব্যয় হওয়ার পরও দ্রুত সময়ে সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে ব্যবহার করা বিটুমিন মানসম্মত ছিল না। পাথরের সঙ্গে বিটুমিন বেশি তরল করে বেশি জায়গায় কার্পেটিং করা হয়েছে। পাথরে বিটুমিনের পরিবর্তে প্রচুর পরিমাণ পোড়া মবিলও ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে সড়কটি উঁচু করা হয়নি। কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু রয়েছে। নিচু স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এসব কারণেই মূলত দ্রুত সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশি খারাপ হয়ে যাওয়া অংশ মেরামতও করা হয়েছে। তবে তা টিকছে না।
সড়কটির বেশির ভাগ অংশ পড়েছে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নে। গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ তুহিনুল ইসলাম জানান, ‘সড়কটি সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হয়েছে। আগের পুরনো পিচ গাড়ি দিয়ে চাষের মতো করে খোঁড়া হয়। তার ওপর নামমাত্র খোয়া ও বালির সংমিশ্রণের মেকাডাম করা হয়। এরপর বিটুমিন দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। বিটুমিনের মানও ভালো না। অন্যত্র থেকে বিটুমিন প্রস্তুত করে সড়ক কার্পেটিং করা হয়। পুরুত্বও কম দেয়া হয়েছে। সে সময় প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদার ও প্রকৌশলী কেউ কথা শোনেননি।
এ ব্যাপারে খুলনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘অতিরিক্ত লোড নিয়ে গাড়ি চলাচল করায় সড়ক টেকসই হয়নি। দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণ এবং করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে।’










