খাদ্যচাহিদা পূরণ ও বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রতি বছর গড়ে ছয় লাখ টন গম সংগ্রহ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু চলতি অর্থবছরের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে গমের সরকারি মজুদ ১ লাখ ২৮ হাজার টনে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় শস্যটির মজুদ বাড়াতে প্রাথমিকভাবে প্রায় তিন লাখ টন গম আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অধিকাংশ সরবরাহ করবে রাশিয়া।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যশস্যের সরকারি মোট মজুদ ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন। এর মধ্যে গম ১ লাখ ২৮ হাজার টন। যেখানে গত বছরের একই সময়ে মোট খাদ্যশস্যের মজুদ ছিল ১৭ লাখ ৩৬ হাজার টন। এর মধ্যে গম ছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার টন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০-২১ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের চাহিদা সংশোধন করতে হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরকে। চলতি বছর ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭ টন সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে চাল ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ৮২৯ টন এবং গম ৫ লাখ ৯০ হাজার ১৭৮ টন। এ গমের অর্ধেকের বেশি সরবরাহ করবে রাশিয়া। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে ২ লাখ টন গম আমদানির অনুমতি দিয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক এ পরিমাণ গম আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৪৩৭ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া আরো এক লাখ টন গম আমদানির প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনাও সেরেছে মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বণিক বার্তাকে বলেন, দ্বিতীয় ধাপে রাশিয়া থেকে গম আমদানির জন্য প্রাথমিক আলোচনা করেছি। দেশটি থেকে ভালো মানের গম তুলনামূলক কম দামেই আমরা কিনতে পারব। আলোচনার সারসংক্ষেপের বিষয়ে দুটি দেশের সংশ্লিষ্টরা সম্মত হয়েছেন। এরপর ক্রয় কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। গমের মজুদ বাড়াতে আমরা আরো বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছি। আশা করছি, শিগগিরই মজুদ বৃদ্ধি পাবে। আমাদের মজুদ সক্ষমতার পুরোটাই ব্যবহার করতে পর্যাপ্ত গম আমদানি করা হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও শিল্পে ব্যবহারের কারণে গমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এ চাহিদা পূরণে উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। চাহিদা অনুসারে উৎপাদন না বাড়ায় আমদানি বাড়ছে। প্রতি বছর সরকারি ও বেসরকারিভাবে ৮-১০ হাজার কোটি টাকার গম আমদানি করতে হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার গম আমদানি করতে হয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারিভাবে ৩ লাখ ৬৮ হাজার টন, খাদ্যসহায়তা ৬৮ হাজার ৫৮০ টন এবং বেসরকারিভাবে আমদানি হয়েছে ৫৯ লাখ ৯৮ হাজার টন। তবে চলতি অর্থবছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারিভাবে আমদানি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার টন।

মূলত দেশে গমের উৎপাদন কমার কারণে এ আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। গম থেকে প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানিও হচ্ছে। দেশে গম উৎপাদনে সবচেয়ে বড় বাধা জলবায়ুর পরিবর্তন। গত কয়েক দশকে শীতকালের দৈর্ঘ্য অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে হেক্টরপ্রতি ফলন সে হারে বাড়ছে না। ফলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে কৃষক পর্যায়ে খরাসহিষ্ণু নতুন জাত অবমুক্ত করা এবং তা দ্রুত সম্প্রসারণে জোর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।