বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগী বহনে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজিত ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্সটি কোনো কাজে আসছে না। শুধু ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্সই নয়, দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার রোগীদের ভরসাস্থল এ হাসপাতালের সরকারি ১২টি অ্যাম্বুলেন্সও রোগীরা ব্যবহার করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ছুটছেন রোগী ও স্বজনরা। এ সুযোগে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা রোগীদের জিম্মি করে তাদের স্বজনদের পকেট কাটছেন। অথচ সরকারি ১২টি অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে পড়ে আছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চলাচল কমিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গ্যারেজে পড়ে থেকে এরই মধ্যে বিকল হয়ে পড়েছে সাতটি অ্যাম্বুলেন্স।
হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ আসেন। ওই সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও করোনা পরিস্থিতি যৌথভাবে মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট সুবিধাযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর পাঁচ চালানে ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স দেশে পৌঁছে। উপহারের এসব অ্যাম্বুলেন্সের একটি শেবাচিম হাসপাতালে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তখন জানানো হয় এ অ্যাম্বুলেন্সটিতে লাইফ সাপোর্ট সুবিধা রয়েছে। আর লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে সেবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। অ্যাম্বুলেন্সটি পুরোপুরি সার্ভিস দেয়া শুরু করলে সংকটাপন্ন রোগীদের লাইফ সাপোর্টে তারাই সার্বিক সহায়তা দিতে সক্ষম হবেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ অ্যাম্বুলেন্সে দেয়া হয়নি আইসিইউ, ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সিলিন্ডার। ফলে এটি তেমন কোনো কাজে লাগছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালে মোট ১২টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। যার মধ্যে চারটি পুরনো গ্যারেজে বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় সেগুলো আর ব্যবহার উপযোগী নেই। নতুন গ্যারেজে রয়েছে আরো আটটি অ্যাম্বুলেন্স। যার মধ্যে তিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। বাকি পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ভারত থেকে উপহার দেয়া লাইফ সাপোর্ট সুবিধা সংযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সটি কোনো কাজে আসছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, উপহার পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি ফুল কমপ্লিট না থাকার কারণে এটি সার্ভিসে নেয়া যাচ্ছে না। এটির উচ্চতা বেশি হওয়ায় পেছনের দিকে চারটি চাকা থাকার কথা। কিন্তু সেখানে দেয়া হয়েছে মাত্র দুটি চাকা। এটি দিয়ে রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে হলে এর বডির নিচের স্ট্রাকচারে পরিবর্তন আনতে হবে।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক নজরুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, ‘চার-পাঁচ মাস আগে আমাদের তেলের বাজেট কমিয়ে দেয়া হয়েছে। যার কারণে আমাদের সার্ভিস কমে গেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে। এছাড়া নয় পদে আমরা মাত্র দুজন চালক রয়েছি।’
এ ব্যাপারে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্স আছে। তবে চালক কম, তাই চলাচল কম করছে। ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্সটি লাইফ সাপোর্টের জন্য ততটা প্রস্তুত নয়। লাইফ সাপোর্টের যন্ত্রগুলো লাগাতে হবে। তাছাড়া বিআরটিএ যে গাড়িগুলো বাতিল বলবে, সেগুলো আমরা নিলামে দেব। বাকিগুলো অল্প টাকায় মেরামত করার সুযোগ থাকলে আমরা মেরামত করব।’










