দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে আগামী মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৯ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানিনিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই ইউনিট চালু হলে দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, নতুন ইউনিট চালু হলে জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণ সহজ হবে। মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা দেশেই পরিশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা বা আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করা ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ তেলের বড় অংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহকে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর করে রেখেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ মজুত রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা মেটাতে সরকারের সক্ষমতা রয়েছে। এখন জুন মাসের সূচি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, বর্তমানে দুটি ইউনিটের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পেট্রল ও বিটুমিনের উৎপাদন চলছে। এ মাসে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে একটি জাহাজে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।










