কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারণা শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে। দুই সিটিতে ইভিএমের মাধ্যমে আজ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ চলবে। এর মধ্যে কুমিল্লা সিটিতে নির্বাচন হবে শুধু মেয়র পদে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইসি। সেই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নির্বাচনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল গঠন করেছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর জানিয়েছেন, এ নির্বাচনে চাহিদার তুলনায় বেশি ফোর্স দেয়া হয়েছে। এর পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে।
কুমিল্লা সিটির ১০৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এরই মধ্যে র্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন হাজার সদস্যকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া মাঠে থাকবেন ৩৬ জন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর আগে চার দিনব্যাপী প্রিজাইডিং অফিসারদের ট্রেনিং হয়েছে। গতকাল সকালে কুমিল্লা জিলা স্কুলের অডিটোরিয়াম থেকে ইভিএম ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নগরীর সংশ্লিষ্ট ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারসহ কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
এবার সিটির ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে সব ক’টি কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, গতকাল থেকে পুরো নগরীতে প্রায় তিন হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে নেমেছেন। ভোটের দিন কেন্দ্রের বাইরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে মোবাইল টিম ও চেকপোস্ট থাকবে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সামছুল তাবরিজ জানান, গতকাল নয়জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১২ প্লাটুন বিজিবি ও র্যাবের ২৭টি টিম মাঠে কাজ করছে। ভোট কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ভোটের মাঠের পরিবেশ এখনো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমন ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে নগরবাসীকে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়া যাবে।’
কুমিল্লা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান জানান, ভোটের দিন প্রতি কেন্দ্রে পাঁচজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ, অস্ত্রধারী দুজনসহ ১২ জন আনসার নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৭টি ওয়ার্ডে পুলিশের ২৭টি মোবাইল টিম, নয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্সের টিম থাকবে এবং রিজার্ভ হিসেবে থাকবে দুটি স্ট্রাইকিং ফোর্সের টিম।
এবার কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচনে মেয়র পদে বাস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসিন বাহার সূচনা। টেবিল ঘড়ি প্রতীকে ভোট করছেন সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু। এছাড়া ঘোড়া প্রতীকে নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং হাতি প্রতীকে ভোট করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম।
মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘আমি মেয়র থাকা অবস্থায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম। তবে সেসব কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারিনি। এবার নির্বাচিত হলে কাজগুলো শেষ করব। প্রচারণার সময় তৃণমূল থেকে ভোটারদের অনেক সাড়া পেয়েছি।’ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আবারো মেয়র নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মোতাবেক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নির্বাচন উপহার দেয়ার সব প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ কেউ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু (দেয়াল ঘড়ি), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম (ঘোড়া), শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদেকুল হক খান মিল্কি টজু (হাতি), কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সদস্য ড. রেজাউল হক (হরিণ) এবং জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম স্বপন মণ্ডল (নাঙ্গল)। পাঁচজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও নগরীর ৩২টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ এবং ১১টি নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী রয়েছেন ৬৯ জন। সিটির ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় ৩২টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে।










