গত ৯ জানুয়ারি ‘‌জাতীয় কৃষি বিপণন নীতি ২০২২’ খসড়া অনুমোদনের সময় মন্ত্রিসভা বৈঠকে সোনালি আঁশ পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক থেকে পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার জন্য একটি প্রশাসনিক আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

একই বৈঠকে পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার প্রশাসনিক আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধপত্র পাঠানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মন্ত্রিসভার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার জানান, এ মন্ত্রণালয় থেকে ‘জাতীয় কৃষি বিপণন নীতি-২০২২’-এর খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। তার ধারাবাহিকতায় গত ৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ওই নীতিমালা অনুমোদন করে। সভায় গৃহীত অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে ‘সোনালি আঁশ পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’ মর্মে কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুসরণীয় কার্যপদ্ধতি কী হতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত গ্রহণের জন্য সভাটি আহ্বান করা হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) প্রতিনিধি পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার অনুসরণীয় কার্যপদ্ধতি কী হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কৃষি বিপণন আইনের ২০১৮ তফশীল-১-এ কৃষিপণ্যের সংজ্ঞায় পাটকে এরই মধ্যে কৃষিপণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণাপূর্বক অন্য চাষীদের ন্যায় পাটচাষীদের কৃষিঋণের আওতায় আনা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপকরণ সহায়তা বা ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। রফতানি প্রণোদনায় কাঁচা পাট অন্তর্ভুক্ত করা দরকার হবে—মর্মে তিনি সভাকে অবহিত করেন। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি পাটকে ২০২৩ সালের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মর্মে সভায় অবহিত করেন।

সভায় উপস্থিত সব সদস্য একমত পোষণ করেন যে যেহেতু ‘‌কৃষি বিপণন আইন ২০১৮’-এর তফশীল-১-এ এবং ‘‌জাতীয় কৃষি বিপণন নীতি-২০২৩’-এ কৃষিপণ্যের সংজ্ঞায় পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেহেতু কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশাসনিক আদেশ জারির মাধ্যমে পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে। এছাড়া ২০২৩ সালকে পাট ও পাটজাত পণ্য বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় পাটের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন মর্মেও সভায় একমত পোষণ করা হয়।