পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে তেঁতুলিয়ার খয়খাট পাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুড়া গ্রামের মজনু মিঞার ছেলে আব্দুল জলিল (২৪) ও তিরনইহাট ইউনিয়নের ব্রহ্মতোল গ্রামের কেতাব আলীর ছেলে ইয়াসীন আলী (২৩)।
ভারতের ১৭৬ ফকিরপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যদের গুলিতে তারা নিহত হন বলে জানিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় পতাকা বৈঠকে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএসএফ। তাদের দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা তাদের আক্রমণ করে। এ কারণে বিএসএফ সদস্যরা জীবন রক্ষায় গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছে। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশে হস্তান্তর করবে বলে বিজিবিকে জানানো হয়েছে। খয়খাট পাড়া সীমান্তে বেলা ১টায় ১৫ মিনিটের পতাকা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল যুবায়েদ হাসান। পতাকা বৈঠকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৭৬ বিএন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এসএস শিরোহী ও বিজিবির পক্ষে ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল যুবায়েদ হাসান।
বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন যুবক ভারতীয় সীমান্তের কাছে যান। ভোরে তারা তেঁতুলিয়ার খয়খাট পাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মুড়িখাওয়া এলাকায় প্রবেশ করলে ফকিরপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। এ সময় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তাদের মরদেহ ভারতের ফাঁসিদহ থানায় নিয়ে যায় বিএসএফ। ঘটনার সময় তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে এসে বিষয়টি নিহতদের পরিবারকে জানান। পরে তারা জনপ্রতিনিধি ও বিজিবিকে বিষয়টি জানান।
নিহতদের পরিবার ও তাদের প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি সুজয় কুমার রায় জানান, গরু চোরাচালান করতে গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ইয়াসিন আলী ও আব্দুল জলিল।
এ বিষয়ে বিজিবি ১৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল যুবায়েদ হাসান জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রনচণ্ডি কোম্পানি কমান্ডারের মাধ্যমে পতাকা বৈঠক করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলায় বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আবারো পতাকা বৈঠক করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।










