চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালে অচল হয়ে পড়েছে বাগেরহাট। গতকাল হরতালের প্রথম দিনে বন্ধ ছিল অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে যানবাহন চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাগেরহাটে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বেশকিছু দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।

চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ৬টা থেকে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা। আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

এদিকে সকাল ৮টা থেকে হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেন কমিটির নেতাকর্মীরা। সাড়ে ৮টায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মিছিল করেন জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা হরতালের সমর্থনে স্লোগান দেন। চারটি আসন ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ইসিকে হুঁশিয়ারিও দেন। যতদিন পর্যন্ত চারটি আসন ফিরিয়ে না দেবে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

হরতালে পর্যটন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে শুরু করে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্র সব জায়গায় পর্যটকের আনাগোনা কমে গেছে।

ষাট গম্বুজ মসজিদের সামনে আব্দুল হাকিমের দোকান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত এ সময় অনেক পর্যটক আসেন। হরতাল শুরুর পর থেকে বিক্রি একেবারেই নেই। দোকান খোলা রাখলেও ক্রেতা নেই। সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

আরেক দোকানি রহিমা বেগম বলেন, ‘আমাদের জন্য হরতাল বড় ভোগান্তি। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত এক কাপ চাও বিক্রি হয়নি।’

ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ‘হরতালের কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। প্রতিদিন যেখানে শত শত মানুষ আসতেন, এখন সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন আসছেন। এতে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে।’

করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, প্রতিদিন যে দর্শনার্থী আসত, দিনে ঘুরে দিনে ফিরে যেত। হরতালের কারণে সেসব দর্শনার্থী এখন আর আসতে পারছে না। করমজলে পর্যটক শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয় নির্বাচন কমিশন। ৩০ জুলাই দেয়া প্রস্তাবে বাগেরহাটের মানুষ আপত্তি জানালেও ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেটে তিনটি আসন বহাল রাখে ইসি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা।