যশোরে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও বিরাজ করছে দক্ষিণের এ জেলায়। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দুদিন এ তাপমাত্রাও দেশের সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আওহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিস বলছে, পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আর সঙ্গে কয়েকদিন ধরে বিরাজ করছে কুয়াশা ও বাতাস। দুইয়ে মিলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাপকাঠি অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতিতীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে ঘর থেকে বের হননি। অনেককে সারা দিনই গরম পোশাক পরে চলাচল করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর থেকে শহরে মানুষের উপস্থিতিও কমতে শুরু করে।
শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার নির্মাণ শ্রমিক মো. মিনহাজ বলেন, ‘শীতে বাইরে দাঁড়াতে পারছি না। অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই। কাজের সন্ধানে বের হয়েছি। ঠিকমতো কাজও পাচ্ছি না।’
শহরের শংকরপুর এলাকার শ্রমজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনে রঙের কাজ করি আমি। কাজের সন্ধানে এসেছি। এখনো কাজ পাইনি। শীতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পেটের দায়ে ঘরের বাইরে বের হয়েছি। কাজ পাব কিনা তাও জানি না।’
শহরের রায়পাড়া এলাকার রিকশাচালক হানেফ আলী বলেন, ‘শীতে ঘর থেকে মানুষ বের হচ্ছে খুব কম। এজন্য যাত্রী পাচ্ছি না। রোজগারও কমেছে। খুব কষ্টে দিন পার করছি।’
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপও দেখা দিয়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শীতকালীন রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে গরম পানি পান করাসহ গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।










