বান্দরবানের রোয়াংছড়ি ও রুমায় স্থানীয় এবং বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে নবম বারের মতো নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হলো। আজ রোববার বিকালে জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গিয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলার রোয়াংছড়ি ও রুমাতে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের জন্য বান্দরবান সেনানিবাসের রিজিয়ন টহল কার্যক্রম পরিচালনা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ওই দুই উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে কুকিচীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপটির প্রশ্রয়ে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী ওই দুই উপজেলার গহীনে গোপন আস্তানায় সমতলের জঙ্গিগোষ্ঠীর অবস্থান ও প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সুনির্দিষ্ট এমন তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গিবিরোধী এ অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত অভিযানে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কেএনএফের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জঙ্গি নির্মূল করতে এ অভিযান চলছে।
এর আগে ১৭ অক্টোবর রাত থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রুমা ও রোয়াংছড়ি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ২৩ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ওই দুই উপজেলাসহ থানচি ও আলীকদমে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ৩১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়। পরে এ চার উপজেলায় ৮ নভেম্বর পর্যন্ত আবারো নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়। এরপর ৯ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত আলীকদমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি এ তিন উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এ তিন উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা বর্ধিত করা হয়। পরে থানচিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ১৭ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত রোয়াংছড়ি ও রুমাতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। ওই দুই উপজেলায় ২১ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর আবারো ২৮ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।










