পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ছাড়াও কম খরচে উন্নতমানের সার সরবরাহের লক্ষ্যে দিনাজপুরে জৈব সার কারখানা নির্মাণ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। মানববর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্যে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট কারখানাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পেরিয়ে গেছে তিন বছর তিন মাস। কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এখনো চালু করা যায়নি কারখানাটি।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় হাকিমপুর পৌরসভার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে নির্মাণ হচ্ছে সমন্বিত কঠিন ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ছাড়াও কৃষকদের জন্য কম খরচে উন্নতমানের সার সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পরও কারখানা চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। কারখানাটি চালু হলে সার সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করেন তারা। অবশ্য দ্রুত কাজ শেষ করে কারখানাটি চালুর আশা করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় কারখানার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে দ্রুতগতিতে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল, এখন আবার শুরু হয়েছে। মেশিনপত্র চলে এসেছে, তবে কারখানা চালু হয়নি। এখানে জৈব সার উৎপাদন শুরু হলে কৃষকদের উপকার হবে। কম দামে হাতের নাগালেই পাওয়া যাবে জৈব সার।’

কৃষক ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘এক দেড় বছর ধরে কাজ বন্ধ ছিল। কারখানাটি চালু হলে কম দামে চাহিদা অনুপাতে সার পাওয়া যাবে। চাষাবাদ করতে সার নিয়ে যে সংশয় রয়েছে, সেটি আর থাকবে না। রবিশস্যসহ সব ধরনের ফসল চাষাবাদ করতে সুবিধা হবে।’

আরেক কৃষক নূরে আলম বলেন, ‘কৃষকদের সার নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় সার পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও চাহিদামতো পাওয়া যায় না। যদিওবা সার পাওয়া যায়, বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হয়। এছাড়া সার পেতে আরো নানা ধরনের ঝামেলা তো রয়েছেই। যদি কারখানাটি চালু হয় তাহলে আমরা সহজে সার পাব।’

এ বিষয়ে হাকিমপুর পৌরসভার প্রশাসক সাব্বির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের মধ্যে হাকিমপুরের প্লান্টটিই সর্বপ্রথম চালু হওয়ার পথে। এরই মধ্যে একটি টিম এসে প্রকল্প পরিদর্শন করে গেছে। যন্ত্রপাতিগুলো বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। ঠিকাদারের পক্ষে চাইনিজ টিম আসবে, তারা এসে কাজ করবে। এ অংশটুকু হয়ে গেলে আমাদের কাজটা শুরু হবে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ যখন আমাদের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করবে, তখন আমরা কাজ করতে পারব। এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, সেই সঙ্গে জৈব সার উৎপাদন হবে। শিগগিরই আমরা কাজ শেষ করে কারখানাটি চালু করতে পারব।’