সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে ছাতক, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুরের যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুরমা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।এছাড়া কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৗলাই, রক্তি নদীসহ জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে। ফলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেদশবিদ ও সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারা বাজার, ছাতক, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জসহ ৭টি উপজেলা। এতে মানুষের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষরা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, গত দুই দিন ধরে ঢলের পানিতে শহরের উকিলপাড়া, সাহেববাড়িঘাট, নবীনগর, কাজিরপয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। সড়ককে হাঁটু পানি দিয়ে যানবাহনসহ চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। ফলে চলাচলকারীদের বেড়েছে দুর্ভোগ। এছাড়া জেলার তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সিলেটসহ সারাদেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ১৭ ও ১৮ জুন ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া ভারতের মেঘালয়, আসাম, চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।