নরসিংদী
কারাগারে হামলার পর লুট হওয়া
৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৫টি। হাতকড়া ও ১ হাজার
৯১ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পালিয়ে যাওয়া আরো এক জঙ্গি সদস্যকে
গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে বিভিন্ন
স্থানে গ্রেফতার হয়েছে আরো তিন জঙ্গি সদস্য। ৮২৬ কয়েদির মধ্যে এখন পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেছে ৪৮১ জন। গতকাল নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান
পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, কারাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে। ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরো কয়েকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। ১৯ জুলাই হামলার সময় কারাগার থেকে ৮৫টি অস্ত্র ও ৭ হাজার গুলি লুট হয়েছিল। উদ্ধার করা ৪৫টি অস্ত্রের মধ্যে ২০টি চায়না রাইফেল, ১৫টি রাইফেল ও ১০টি শটগান রয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী কারাগারটি শহরের ভেলানগরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। ভেলানগর ও জেলখানা মোড়ে কোটা সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিনই লাগাতার বিক্ষোভ-সমাবেশ করছিলেন। ১৯ জুলাই সেখানে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছিল। তবে সেদিন সেখানে শিক্ষার্থীদের খুব একটা দেখা যায়নি। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ হাজারো জনতা কারাগারের দিকে এগোতে থাকে। সেখানে প্রথমে ইটপাটকেল, পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে। হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এ সময় প্রাথমিকভাবে কারারক্ষীরা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। বেশ কিছুক্ষণ তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কারারক্ষীরা পিছু হটে। তখন হামলাকারীরা কারাগারের দুদিকের ফটক অনেকটা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় হামলায় চার কারারক্ষী গুরুতর আহত হন। পরে কারারক্ষীরা জেলখানার ভেতরে ঢুকে নিজেদের রক্ষা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারীরা মূল কারাগারের ভেতর ঢুকে সেলগুলো শাবল ও লোহার জিনিসপত্র দিয়ে ভেঙে কয়েদিদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। কিছু কারারক্ষীর কাছ থেকে চাবি নিয়েও সেলের তালা খোলা হয়। হামলা ও অগ্নিসংযোগে কারাগার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অফিস কক্ষ, কনডেমড সেল, রান্নাঘর, খোলা চত্বর সব জায়গায় তাণ্ডবের চিহ্ন। দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, দেয়ালে দেয়ালে ছিল পোড়া দাগ।










