গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রাস্তা প্রশস্ত ও উঁচু করার কাজ চলছে। প্রকল্পে শুধু মাটি সরবরাহের জন্য ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ফসলি জমির মাটি কেটে রাস্তা ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষককের। মাটি কাটার কারণে রাস্তার দুই পাশের জমিতে গর্ত হয়ে গেছে। এতে উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের গোপীনাথ গ্রামের শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে ঠিকাদারকে একাধিকবার নোটিসও পাঠানো হয়েছে। তার পরও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল হাইস্কুল থেকে গোপীনাথপুর পর্যন্ত ৯৫০ মিটার রাস্তা প্রশস্ত ও উঁচু করার কাজে ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পে শুধু মাটি সরবরাহের জন্য ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের এপ্রিলে। চলতি বছর মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার কথা। কাজটি পেয়েছে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওশান এন্টারপ্রাইজ।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আবুল খায়ের সেলিম বলেন, ‘ওই রাস্তা করতে চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু জমি গর্ত করা ছাড়া কাজ শেষ করার কোনো সুযোগ ছিল না। জোর করে কারো জমির মাটি কাটা হয়নি।’
সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারকে জমি থেকে মাটি কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি তা অমান্য করেছেন। প্রকল্পে মাটি সরবরাহের জন্য আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। এর পরও ঠিকাদার রাস্তার পাশে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তার কাজ করেছেন। এ কারণে শুধু কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, রাস্তারও ক্ষতি হবে। ঠিকাদারকে রাস্তা থেকে কমপক্ষে ১৫ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত গর্ত ভরাট করতে বলা হয়েছে। কৃষকের অভিযোগের বিষয়টি দেখে প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে বিল বন্ধ করে দেয়া হবে।’










