ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার একদিন আগেই কর্মব্যস্ত নগরী রাজধানী ছেড়ে গ্রামের মেঠো পথের টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বেড়েছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোর থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে যানবাহনের চাপ।

এখন পর্যন্ত সড়কপথে যানজট কিংবা ভোগান্তি না থাকায় স্বস্তির হাসি ফুটেছে মানুষের মুখে। কিন্তু গণপরিবহন ও যাত্রীবাহী বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেকে।

এদিকে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা এলাকায় ৭টি বুথে আদায় করা হচ্ছে যানবাহনের টোল। মোটরসাইকেলের জন্য বরাবরের মতোই এবারও রয়েছে আলাদাভাবে টোল নেয়ার ব্যবস্থা।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামীকাল শুক্রবার (২৮ মার্চ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের ছুটি শুরু হলে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাবে সেতুতে। অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে মাওয়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানী থেকে নানা উপায়ে ভেঙে ভেঙে নারী ও শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অনেকেই মাওয়া পর্যন্ত এসেছেন। তীব্র গরমে গন্তব্যের উদ্দেশে যেতে পরিবহন সংকটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের। এছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবহনের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে পদ্মা সেতুর উত্তর থানা গোল চত্বর এলাকায়। এ সময় বিভিন্ন পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তবে অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ জানিয়েছেন, সেতুতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় টোল আদায় বেড়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা। এ সময় মাওয়া প্রান্ত হয়ে পদ্মা সেতু পারি দিয়েছে ১৪ হাজার ৯৯২টি যানবাহন। এছাড়া উভয় প্রান্তে চলাচল করেছে ২৬ হাজার যানবাহন।

এছাড়া পদ্মা সেতুর (টোল ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে থাকা) সহকারী প্রকৌশলী রাজন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সেতু নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। একই সঙ্গে সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যানবাহনের গতি। ফলে সেতুতে বড় কোনো দুর্ঘটনার শঙ্কা নেই এবারের ঈদযাত্রায়।