ছিটমহল বিলুপ্ত হলেও ভূমি জটিলতায় পড়েছে কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ার দুই শতাধিক মানুষ। ব্রিটিশ রেকর্ড থাকলেও কারো জমি রেকর্ড করা হয়েছে সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে, আবার কারো জমি অন্যের নামে। জটিলতার বিষয়টি জমির মালিকরা জানতে পেরে সমাধানে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান মিলছে না।

ভুক্তভোগীরা জানান, ছিটমহল বিনিময়ের পর দাসিয়ারছড়ার প্রায় ১৪ হাজার বাসিন্দা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পান। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই বিনিময় হয় বাংলাদেশ-ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল। বিনিময়ের পর প্রায় আট বছরে দাসিয়ারছড়ায় পাকা রাস্তা, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করে সরকার। নাগরিকত্বের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও নিজেদের জমি খাস খতিয়ানে রেকর্ড হওয়ায় দুশ্চিন্তায় অনেকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, ছিটমহল বিনিময়ের পর দাসিয়ারছড়ার ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করতে কেউ ষড়যন্ত্র করে এসব জমি খাস খতিয়ানে ও একজনের জমি আরেকজনের নামে রেকর্ড করিয়েছে। আমার নিজের জমিও ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হয়েছে। দাসিয়ারছড়ার দুই শতাধিক মানুষ ভূমি জটিলতায় ভুগছে। আমরা দীর্ঘদিন বন্দি জীবন কাটিয়েছি। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিটমহল বিনিময় করে আমাদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন। ভূমি জটিলতা সমাধানে ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়েছি। জেলা প্রশাসকের কাছেও গিয়েছি।  কোনো সমাধান হয়নি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালে করা ভূমি জরিপের পর নতুন করে জটিলতায় পড়ে দাসিয়ারছড়ার দুই শতাধিক বাসিন্দা। বাপ-দাদার নামে ব্রিটিশ রেকর্ড থাকলেও জরিপে প্রায় ১০০ একর জমি চলে গেছে খাস খতিয়ানে। এসব জমির মধ্যে রয়েছে কৃষি ও বসতবাড়ি। শুধু তাই নয়, একজনের জমি রেকর্ড করা হয়েছে আরেকজনের নামে।

ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দাদার নামে ব্রিটিশ রেকর্ড করা জমি কীভাবে সরকারের খাস খতিয়ানে গেছে সেটা বুঝতে পারছি না। যদি এ জমি ফিরে না পাই তাহলে আমাদের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি থাকবে না। আমরা এর সমাধান চাই।’

দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা ছকিয়ত বলেন, ‘আমার প্রায় ৩০ শতক জমি খাস খতিয়ানে রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া ভিটেবাড়ির আরো ২০ শতক জমি অন্যের নামে রেকর্ড হয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিসে ব্রিটিশ রেকর্ডের কাগজ নিয়ে গেলে সমাধান করার কথা বলেও সমাধান করছে না। এসব জমির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমদের দুশ্চিন্তা কাটছে না।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ জানান, দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দাদের ভূমি জটিলতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সমাধান করা হবে।’

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ-ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ের পর বাংলাদেশ পায় ১১১টি ছিটমহল আর ভারত পায় ৫১টি। এর মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা বড় ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার আয়তন সাত বর্গকিলোমিটার।