১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর। রাজধানী ঢাকার উত্তরার আজমপুরে পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে। আন্দোলনরতদের ছত্রভঙ্গ করতে পেছন থেকে ছররা গুলি ছুড়ছে পুলিশ। অনরবত ছোঁড়া সেই গুলিতে হঠাৎই ঝাঁঝড়া হয়ে গেল ১৮ বছর বয়সী কিশোর শেখ ফাহমিন জাফরের পিঠ। মাথায় বিদ্ধ হলো রাবার বুলেট। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় ফাহমিনের।

রোববার (২৮ জুলাই) বিকেলে মুঠোফোনে কথা হলে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা এভাবেই প্রতিবেদকের কাছে বলছিলেন শেখ ফারদিন জাফর।

নিহত ফাহমিন টঙ্গী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। শেখ আবু জাফর ও কাজী লুলুল মাখমিন দম্পতির তিন সন্তানদের মধ্যে সবার ছোট ফাহমিন। উত্তরা গাওয়াইর মাদ্রাসা রোড দক্ষিণখানে মা ও বড় ভাইসহ মামা-মামীর সঙ্গে একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন ফাহমিন। তাদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহগোলা ইউনিয়নের তাড়াটিয়া গ্রামে। ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মৃত ফাহমিনকে সেখানেই দাফন করা হয়।

নিহত ফাহমিনের ভাই শেখ ফারদিন জাফর বণিক বার্তাকে বলেন, ছোট থেকেই ফাহমিন বিপ্লবী মনোভাবের ছিল। বিদ্রোহী কবিতা লিখত, কোথাও অন্যায়-অবিচার হতে দেখলেই সে প্রতিবাদ করত। তাই এই আন্দোলনে যেতে কখনোই আমরা তাকে বাধা দেইনি। তবে আন্দোলনে ওদের (পুলিশ) ছোড়া গুলিতে পিঠ ঝাঁঝরা হয়ে মারা গেল আমার ভাই। পুলিশের গুলিতে ফাহমিন শহীদ হয়েছে। এমন ভাই পেয়ে আমি গর্বিত।

মা কাজী লুলুল মাখমিন বণিক বার্তাকে বলেন, মারা যাওয়ার দিন সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে ফাহমিন বলেছিল, আম্মু আমি যদি মারা যাই, যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাজপথে আমার লাশ ফেলে রাখবা। ছেলের কথাগুলো প্রতিনিয়ত কানে বাজছে।

ফাহমিনের মা বলেন, দুইটা রাবার বুলেটসহ শতাধিক ছররা গুলি বিদ্ধ হয়ে ফাহমিন মারা গেছে। মোবাইলে কল করে যখন জানানো হলো— ফাহমিন আর নেই। ছুটে গেলাম ক্রিসেন্ট হাসপাতালে। ছেলের রক্তমাখা জামা এখনো চোখের সামনে ভাসছে। এই দেশের বিচার বিভাগের ওপর আমার আস্থা নেই। জাতিসংঘের কাছে আমার ছেলেসহ প্রত্যেক শিক্ষার্থী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাই।