ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞা শুরুর ১০ দিন পরেও অনেক জেলে সেই সহায়তা পাননি। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ আবার নদীতে নামছেন মাছ শিকারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরিশালের হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ঘেঁষা মেঘনা ও আশপাশের নদীতে দেখা যায় শত শত ট্রলার। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার চলছে। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালীরা যেমন জড়িত তেমনি জেলেদের জন্য বরাদ্দের খাদ্য সহায়তা সঠিক সময়ে না পাওয়াকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশালের হিজলার বাউশিয়া গ্রামের জয়নাল ও রাজ্জাক দুই চাচাতো ভাই। নদীতে মাছ ধরতে না পেরে মেঘনার পাড়ে ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন তারা। দুজনের ঘরেই ছয়জন করে সদস্য। তাদের অভিযোগ, মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিলেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছেনি তাদের হাতে।

জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে একটি পরিবারের হাতে শুধু-ই মাত্র ২৫ কেজি করে চাল দিলেই কি খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব? তারা অভিযোগ করে বলেন, যারা জেলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে তারা খাদ্য সহায়তা ঠিকমতো পায়না। অথচ যারা জেলে না, তারা পাচ্ছে সহায়তার চাল। বরিশালের পাশাপাশি এমন অভিযোগ পটুয়াখালী বরগুনা ও ভোলার জেলেদেরও।

চাল না পাওয়ার পাশাপাশি উপার্জন বন্ধ থাকায় এসব জেলার জেলেদের সংসারে এখন অভাব বিরাজ করছে। তারা বলছেন, দেশের জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয় জেলেরা ঠিকই জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে দেশের জেলেরা। খাদ্য সহায়তাও মিলছে না ঠিকমতো।

জেলেদের অভিযোগ, বরাদ্দের ২৫ কেজি চালের মধ্যে ১৮ থেকে ২০ কেজি পাচ্ছেন তারা। ফলে নামমাত্র এ সহায়তাও দুর্দশা দূর করতে পারছে না জেলে পরিবারগুলোর। তারা বলছেন, বেশিরভাগ জেলে পরিবার হতদরিদ্র। অনেকের ঘরেই চাল নেই। কাজ না থাকায় ধার-দেনা করেও সংসার চলছে না।

জেলে পরিবারগুলোর জন্য চালের সঙ্গে আর্থিক সহায়তাও দেয়ার প্রয়োজন দেখছেন তাদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দেয়া হয় মাত্র ২০-২৫ কেজি চাল। তবে এর সঙ্গে দুই হাজার করে টাকা দিলে জেলেরা কোনোরকমে খেয়ে বাঁচতে পারত।

বরিশাল বিভাগ মৎস্য অধিদফতরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় চাল-ডাল ও অন্য সহায়তা শুধু নয়, বিভিন্ন বিকল্প কর্মসংস্থানমূলক কাজ বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলাতে জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।