সরকারি উন্নয়নকাজের অগ্রগতির জন্য ৬ ডিসেম্বর নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার কাতলারচর মৌজায় মেঘনা নদীতে বালি উত্তোলনের অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। তবে কার্যাদেশে চুম্বক ড্রেজারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কাটিং ড্রেজার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ১৫টির বেশি চুম্বক ড্রেজার ব্যবহার করা হচ্ছে মেঘনার বালি উত্তোলন কাজে।

এভাবে বালি উত্তোলনের কারণে রায়পুরা উপজেলার মাঝেরচর, সুলতানপুর, সাহারখোলা, ছাটাবনসহ বেশকিছু গ্রামে নদীতীরবর্তী ঘরবাড়ি ভাঙনের হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রায়পুরা উপজেলার কাতলারচর মৌজায় বালি উত্তোলনের ইজারা দেয়া হয়েছে। চুম্বক ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। কাটিং ড্রেজার দিয়েই বালি উত্তোলন করতে হবে। চুম্বক ড্রেজার ব্যবহার করলে বালুমহালের ইজারা বাতিল করা হবে।’

সরজমিন দেখা গেছে, রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলি ইউনিয়নের কাতলারচর মৌজার মেঘনা নদীর তীরে একটি বালুমহাল রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালুমহালটি ইজারা নেয়া হয়েছে। ইজারাদারের যোগসাজশে কাতলারচর মৌজা থেকে দেড়-দুই কিলোমিটার দূরে চানপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর ও রায়পুরা ইউনিয়নের সাহারখোলা এলাকা থেকে চুম্বক ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর উভয় তীরের মানুষের ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইজারার কার্যাদেশে চুম্বক ড্রেজারের বদলে কাটিং ড্রেজার ব্যবহারের শর্তে ইজারা পায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মৌসুমী ড্রেজিং প্রকল্প ও নৌ-পরিবহন বালুমহাল।

এ বিষয়ে ইজারাদার মিন্টু মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা কাতলারচর মৌজায়ই বালি উত্তোলন করি। আসলে নদীর ঢেউয়ের কারণে ড্রেজার মাঝেরচর মৌজায় চলে আসে। তাছাড়া চুম্বক ড্রেজার ছাড়া বালি উত্তোলন করা সম্ভব না।’

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজলিন শহীদ চৌধুরী জানান, ইজারা এলাকা ছাড়া বালি উত্তোলন করার কোনো সুযোগ নেই। এমনটা কেউ করে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেসব শর্তে বালুমহাল ইজারা দেয়া হয়েছে, সেসব শর্ত মেনেই বালি উত্তোলন করতে হবে।’