‘বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মূলত স্বাধীনতার পরই দেশের উন্নয়ন শুরু হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান বাংলাদেশে জিডিপি বেড়েছে ৭৪ গুণ। বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা আরো বেশি সাহায্য চাই’—বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
গতকাল বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারত্ব উদযাপন’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দেশের জিডিপির আকার ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আমাদের দারিদ্র্যের হার কমে ২০ শতাংশ হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার। গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ বছরে। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক অনেক সহায়তা করেছে। ২০৩১ সালে বাংলাদেশ উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, এটাই আমাদের পরবর্তী টার্গেট। আর ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের অপারেশন বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ, সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান প্রমুখ।
বিশ্বব্যাংক এমডি অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আগামীতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক। তবে বাংলাদেশকে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট সংকট ও দারিদ্র্য নিরসন।
তিনি বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ কমলে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা বাড়ে। আমি কয়েকটি স্কুল দেখেছি, এর উন্নয়ন ও প্রসার ঘটাতে হবে। প্রাইমারি ও ভোকেশনালে সরকারের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রাইমারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার বিতরণ ও উপবৃত্তি কর্মসূচি নিতে হবে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও জলবায়ু মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক কাজ করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলে অনেক কাজ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে আরো কাজ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার বলেন, বাংলাদেশ এখন অনেক দেশের অনুপ্রেরণা। একসময় দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটি ছিল। এখন এটি সমৃদ্ধি ও উন্নতির পথে এগোচ্ছে। ব্র্যাকের ফজলে হাসান আবেদের মতো লোকেরা এ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও অবদান রেখেছেন। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল।
এরপর প্যানেল আলোচনায় মার্টিন রাইজারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট নিহাদ কবির ও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ড. আহমদ কায়কাউস।
পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন অন্যতম বড় সমস্যা। বিশেষ করে হাওর ও উপকূল এলাকায় এর প্রভাব বেশি। এসব অঞ্চলে বেশি বিনিয়োগ দরকার। বছরে প্রবৃদ্ধির আড়াই-তিন শতাংশ বিনিয়োগ জলবায়ু মোকাবেলায় দরকার। জলবায়ুর কারণে “ক্লাইমেট রিফিউজি” সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে। ডেল্টা প্ল্যান কিছুটা হলেও বিনিয়োগের কিছু এলাকা ঠিক করে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক এক্ষেত্রে সাহায্য করেছে। ভবিষ্যতেও তাদের থেকে আরো বেশি সাহায্য প্রত্যাশা করি।’










