উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় নয় হাজার পরিবার দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে এসব এলাকায় পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি জ্বর-সর্দি ছড়িয়ে পড়েছে। কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ পড়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

এখন পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কোনো মেডিকেল টিম গঠন করেনি। তবে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে পাকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে দুদিন চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ও হেপাটাইটিস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসা না পেলে পানিতে ভেজা ক্ষত সংক্রমিত হয়ে গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট ও কিডনির জটিলতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাদের মতে, অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম ও চিকিৎসা শিবির স্থাপন ছাড়া এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন। খাদ্য, সুপেয় পানি ও গোখাদ্যের তীব্র সংকটের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন মানুষজন চিকিৎসাসেবার অভাবে। বানভাসি মানুষ বলছেন, আগাম সতর্কতা এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো ভয়াবহ আকার নেবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘১৪ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ সহায়তা পর্যাপ্ত নয়। পানি বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। বিষয়টি আমরা সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’