নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় কংস নদে ধানবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় রেজাউল ইসলাম ওরফে শিরমনি (৩০) নামে এক শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল সোমবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাত ৩টার দিকে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর দৌলতপুর এলাকার বালুঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ রেজাউল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের উসমান গণির ছেলে।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুপুর দুইটা পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি।

নৌকা থেকে বেঁচে ফেরা শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নৌকায় মাঝিসহ মোট পাঁচজন ছিলেন। রাত ৩টার দিকে ঘাটে বাঁধা নৌকার তলা বিকট শব্দে ফেটে দ্রুত তলিয়ে যায়। এতে চারজন নৌকা থেকে বেরিয়ে সাঁতরে তীরে উঠলেও রেজাউল নৌকার ভেতরে আটকা পড়েন।

ঘটনাস্থলে থাকা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক পিন্টু চন্দ্র দে জানান, নৌকাটিতে ২৫০ বস্তায় ৪৫৬ মণ ধান ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় দিরাই থেকে নৌকাটি ধান নিয়ে এসে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর ঘাটে ভিড়ে। পরে রাত ৩টার দিকে বিকট শব্দে তলা ফেটে ডুবে যায়। এসময় ভেতরে পাঁচ শ্রমিক ঘুমিয়ে ছিলেন। দ্রুত ঘুম ভেঙে চারজন সাঁতরে তীরে উঠলেও রেজাউল ভেতরে আটকা পড়েন। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

নৌকা থেকে বেঁচে ফেরা শ্রমিক সেলিম মিয়া বলেন, রাতে বৃষ্টি হওয়ায় আমরা ভেতরে ঘুমাচ্ছিলাম। ৩টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি নৌকা তলিয়ে যাচ্ছে। তখন যে যার মতো তাড়াহুড়ো করে বেরিয়েছে। তীরে উঠে দেখি রেজাউল নেই।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশনের ডুবুরি দলের ইনচার্জ জমিয়ত আলী মঙ্গলবার দুপুর ২টায় বলেন, খবর পেয়ে সকাল পৌনে ৯টায় এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। দুই দফা নৌকার ভেতরে গিয়ে খোঁজ করে রেজাউলকে পাওয়া যায়নি। অভিযান চলমান আছে। মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাব্বির আহম্মেদ আকুঞ্জি বলেন, খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিখোঁজ ব্যক্তিসহ নৌকাটি উদ্ধারে ময়মনসিংহ থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।