মূলত বন্যায় আবাসস্থল তলিয়ে গেলে বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া। তবে এবার বর্ষার আগেই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চরাঞ্চলে সাপটির উপদ্রব বেড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, গত দুই সপ্তাহে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন নারীসহ চারজন। ভয়ে মাঠে যেতে পারছেন না কৃষক। গত বছর এ সময় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মারা গিয়েছিলেন চার কৃষক। আহত হয়েছিলেন অন্তত ১৫ জন।
চিকিৎসকরা বলছেন, সাপে কামড়ালেই নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ। আর উপজেলা প্রশাসন বলছে, কৃষকদের আপাতত দেয়া হবে গাম বুট ও গ্লাভস। পাশাপাশি সচেতনতামূলক সভা করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার মজলিশপুর চর এলাকায় গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান বাহেরচর দৌলতদিয়া এলাকার বাসিন্দা মালেকা বেগম। এ সময় তিনি রাসেলস ভাইপারের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার সঙ্গে থাকা কৃষকরা তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এর আগে গত সপ্তাহে চর মজলিশপুর ও চর মহিদাপুরে কৃষক শুকুর শেখ, সাগর শেখ ও আসলাম মিয়াকে কামড় দেয় রাসেলস ভাইপার।
কৃষকরা বলছেন, সাপের উৎপাতে চরাঞ্চলে কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর করনেশনা, আঙ্কের শেখের পাড়া, মহিদাপুর চরসহ কয়েকটি এলাকায়। মাঠ ভরা পাকা ফসল থাকলেও সাপের কারণে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সরিফুল ইসলাম জানান, বিষধর সাপে কামড়ালে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম থাকলেও এর পরের পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো সাপোর্ট হাসপালে নেই বলে স্বীকার করেন তিনি। তাই এ ধরনের রোগীকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুর রহমান জানান, সাপ থেকে বাঁচতে কৃষি, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও কৃষকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হবে। কৃষকদের দেয়া হবে গাম বুট ও হ্যান্ড গ্লাভস।










