নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ২০১৬ সালে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার অপরাধে স্ত্রী রেহানা আক্তার, ছেলে মো. হান্নান ও স্ত্রীর কথিত প্রেমিক নিহতের চাচাতো ভাই মো. মোহনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামির ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ এ আদেশ দেন।
জেলা জজ আদালত সূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার তালুয়া চাঁদপুর গ্রামের আব্দুল জাহের একজন প্রবাসী ছিলেন। বিদেশ থাকার সুবাদে স্ত্রী রেহানা আক্তার প্রবাসীর চাচাতো ভাই মো. মোহনের সাথে বক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ করে। জাহের বাড়ি আসার পর ঘটনাটি জানতে পারলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।
ওই ঘটনায় মায়ের পক্ষ নিয়ে ছেলে হান্নানও জাহেরের গায়ে হাত তোলেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেকে মারধর করেন জাহের। এ ঘটনায় হান্নান রাতেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এক পর্যায়ে স্ত্রীর নির্দেশে ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে আসামি মোহন ছেলের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে প্রবাসী জাহেরকে ডেকে নিয়ে যান। পরে ছেলে হান্নান ও স্ত্রীর কথিত প্রেমিক প্রবাসীর আপন চাচাতো ভাই মোহন আব্দুল জাহেরকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি খালে ফেলে দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা জাহেরকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না খোঁজ মেলেনি।
এ ঘটনার পর স্ত্রী নিজেই বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হলে প্রথমে তার ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং রেহানা ও মোহনকে আটক করে।
তাদের আটকের পর নিহতের বড় ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত শেষে স্ত্রী, পুত্র ও স্ত্রীর কথিত প্রেমিককে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়। পরবর্তীতে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষগ্রহণ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত।
পাবলিক প্রসিকিউটর গুলজার আহমেদ জুয়েল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায়ের সময় তিন আসামি আদালতের ডকে উপস্থিত ছিলেন।










