চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে দেশের পণ্য রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়। তার পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল রফতানিতে। অন্যদিকে একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস জুলাই থেকে ডিসেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ বা সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ ফেব্রুয়ারি ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্ট—বিওপি) তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৯৭৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৭৯ কোটি ডলার। একই সময়ে সার্ভিস বা সেবা খাতে ঘাটতি বেড়েছে ৫৭ কোটি ডলারের বেশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশে রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। এরপর আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রফতানি কমেছে। আগস্টে রফতানি কমার হার ছিল ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৪ দশমিক ৬১, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩, নভেম্বরে ৫ দশমিক ৫৪ ও ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ রফতানি কমেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশ থেকে রফতানি হয়েছিল ২ হাজার ২৩২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছে ২ হাজার ২১২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য। এ সময়ে রফতানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক দশমিক ৯ শতাংশে।
বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের রফতানি কমলেও আমদানি বেড়েছে ৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের আমদানি ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।
তবে রফতানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হলেও বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে দেশের প্রবাসী আয়ের প্রবাহে। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে প্রবাসী আয় এসেছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ১০ লাখ ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।
মূলত রফতানিতে নেতিবাচক সময়েও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিই চলতি হিসাবের ভারসাম্যকে কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রেখেছে। একই সঙ্গে স্থিতিশীল হয়েছে দেশের রিজার্ভও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে (বিপিএম৬ হিসাবায়ন পদ্ধতিতে ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার)।
এদিকে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও প্রথম ছয় মাসে সার্বিক বিওপিতে উদ্বৃত্ত আছে ১৯৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে ৪৬ কোটি ডলার ঘাটতি ছিল। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট বা রাষ্ট্রের আর্থিক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে আর্থিক হিসাবে ৫২ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সেখানে উদ্বৃত্ত আছে ২০৪ কোটি ডলারের। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশী অনুদান ও ঋণের ওপর ভর করে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।










