১৫ বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পর দুই চোখের আলো নিভে যায় তার। জগতের সৌন্দর্য অবলোকন থেকে বঞ্চিত হন। আলো না থাকলেও মনের জোর কখনো হারাননি গোলাপ মিয়া। গান গেয়ে করতেন উপার্জন। এতে সংসারও টেনেটুনে চলে যেত। গানই ছিল তার একমাত্র ভরসা। সপ্তাহে পাঁচদিন সুনামগঞ্জ আদালত চত্বর এবং বাকি দিনগুলো হালোয়ারঘাটে নৌকাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় গান গেয়ে থাকেন। প্রতিদিন গান গেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা উপার্জন করতে পারতেন তিনি। কিন্তু মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দফায় দফায় লকডাউনে ভাটা পড়ে তার রোজগারে। আয় না থাকায় বিপর্যস্ত তার পরিবার। কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে চলছিল তার সংসার। কিন্তু লকডাউনে বের হতে পারেননি ঘর থেকে। পবিত্র রমজান আসার পর রোজগার পুরোপুরি বন্ধ। ঘরেও নেই খাবার। পাননি কোনো ত্রাণ সহায়তা। অনেকটা বাধ্য হয়ে স্ত্রীসহ রাস্তায় নামেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে চলে তার সাত সদস্যের সংসার।
১৫ বছর বয়সে চোখ হারানো সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের খায়েরগাঁও এলাকার মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে গোলাপ মিয়া (৫০)। সবাই তাকে ‘অন্ধ শিল্পী গোলাপ ভাই’
বলে ডাকেন। সংসারে প্রতিবন্ধী স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে পাশের গ্রামে বিয়ে দিয়েছেন। বাকি চার সন্তান মাদ্রাসা ও স্কুুলে লেখাপড়া করছে।
অন্ধ শিল্পী গোলাপ মিয়া বলেন, মহামারী করোনা ও লকডাউনের কারণে আদালত বন্ধ। রাস্তাঘাটে চলাচল করা যায় না। আগে আদালত এলাকায় গান গাইতাম। মানুষ এসব গান শুনে যা দিত তা দিয়ে চলত তার সংসার। কিন্তু এখন আদালত বন্ধ থাকায় মানুষ আসে না। খুব কষ্টে দিন কাটছে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুচিত্রা রায় বলেন, অন্ধ গোলাপ মিয়া খুবই ভালো একজন শিল্পী। গোলাপ মিয়া প্রতিবন্ধী ভাতা পান। লকডাউনে হয়তো একটু কষ্টে আছেন। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।










