মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৫৪৮ জন ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আরো ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় জাইমা রহমানের ছবিসংবলিত মগ। শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সাইকেল বিতরণ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘নারী শিক্ষার উন্নয়নই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।’ তিনি আরো বলেন, ‘জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।’ 

প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলেও পালন করেছেন তিনি। তখন দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ নানা মানবিক কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করাই এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এবারো শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো চক্ষু চিকিৎসাসেবা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দুইদিনে প্রায় চার হাজার মানুষকে এ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। প্রথম দিনে মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দেয়া হয়।

চক্ষু চিকিৎসাসেবা অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে। যারা তাদের ধোঁকায় পড়েছে তারা আজ আফসোস করে। এরা ভোটের জন্য মাথায় টুপি দিয়ে ঢাকের তালে নেচেছে, এবার ভোট শেষ—তাদের আর পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি। মুসলিমদের বেহেশতের লোভও আর দেখায় না। ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করলেও ইমাম মুয়াজ্জিন, খাদেমদের কথা তারা ভাবে না, বলেও না। অথচ তাদের কথা ভেবেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’ 

তিনি বলেন, ‘আপনাদের সন্তান তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।’ 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবণী আকতার, রূপসী বিডি গ্রুপের এমডি মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তার স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম, প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাত প্রমুখ। পরে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।