শীতের শুরুতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৫৫ শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় আক্রান্তের হার প্রায় তিন গুণ বেশি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের তথ্য বলছে, রোববার সকাল পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে জ্বর, ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে ১৬টি নবজাতক, ৪৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন রোগে ১৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ জন ডায়রিয়া, তিনজন ডেঙ্গু ও চারজন নিউমোনিয়া আক্রান্ত। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪০-এ।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের এ সময়টায় ঠাণ্ডাজনিত সমস্যাগুলোই বেশি দেখা যায়। যেমন কাশি, অ্যাজমার প্রকোপ বেড়ে যাওয়া, সাময়িক জ্বর, কোল্ড অ্যালার্জি হয়ে থাকে। এ সময় বাতাসে ধুলাবালি বেশি থাকায় অনেকের অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষের কাশি, কোল্ড অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঠিক সময়ে শনাক্ত করা না গেলে সেটা অনেক সময় নিউমোনিয়াতেও রূপ নিতে পারে। হঠাৎ করে ঠাণ্ডার কারণে শিশুদের, অনেক সময় বড়দেরও ডায়রিয়া হতে দেখা যায়। বিশেষ করে যখন বেশি ঠাণ্ডা পড়ে, তখন বয়স্কদেরও পাতলা পায়খানা হতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, সাধারণত শীতের শুরুতে ও রোজার মাসে রোগীর চাপ কিছুটা কম থাকে। বছরের অন্য সময়ে যেখানে ৪০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকে, সেখানে বর্তমানে নেমে এসেছে প্রায় ৩০০-তে। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডাজনিত রোগ; ডায়রিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, চর্মরোগ ও জ্বর আরো বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

গতকাল সকালে শিশু ওয়ার্ডে দেখা গেছে, শয্যা সংকটে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান ও ডা. রেজাউল করিম রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, ‘শীতকালে প্রতি বছরই ডায়রিয়ার ব্যাপকতা দেখা যায়। এবারো পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে।’ শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সুপেয় পানি ও ডাবের পানি পান করানো এবং ডায়রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক না দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।