সান্ধ্য কোর্স পরিচালনার নিয়মকানুন ঠিক করতে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি এরই মধ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে। কমিটির প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে সর্বোচ্চ একটি সান্ধ্য কোর্স পরিচালনার সুযোগ থাকবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভর্তির সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০।
সান্ধ্য কোর্স চালু রাখা হবে কিনা, রাখা হলে সেটি কোন পদ্ধতিতে চলবে—এ বিষয়ে সুপারিশমূলক প্রতিবেদন ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নে বছর দুয়েক আগে একটি কমিটি গঠন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে দুজন উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সব অনুষদের ডিন ও দুজন ইনস্টিটিউট পরিচালককে সদস্য করা হয়। উচ্চ পর্যায়ের ওই কমিটি সান্ধ্য কোর্স চালু রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। সম্প্রতি গঠিত কমিটির এক সভায় প্রস্তাবিত নীতিমালার প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
নীতিমালা বিষয়ে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক হাফিজ মো. হাসান বাবু বণিক বার্তাকে বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সভায় প্রস্তাবিত নীতিমালায় আমরা স্বাক্ষর করেছি। কিছু ছোটখাটো সংশোধনী ছিল, সেগুলো সম্পন্ন করে এনে সেটি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য একাডেমিক কাউন্সিলে পাঠানো হবে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, সান্ধ্য কোর্স চালু রাখা হলেও এর পরিচালনার প্রচলিত পদ্ধতিতে ব্যাপক আকারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এ নীতিমালার মাধ্যমে। কোনো বিভাগ বা ইনস্টিটিউটগুলোতে সর্বোচ্চ একটি সান্ধ্য কোর্স পরিচালনার সুযোগ থাকবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভর্তির সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০। এক শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ দুটি ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া যাবে। আর সন্ধ্যাকালীন প্রোগ্রাম পরিচালনা বাবদ আয়ের ৩০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা দিতে হবে। এছাড়া ডিন অফিস, গবেষণা ও শিক্ষার্থী বৃত্তি খাতে আরো ২৫ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। ২০০২ সালে দেশে সান্ধ্য কোর্স প্রথা চালু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ। শিক্ষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ থাকায় খুব দ্রুতই অন্য বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সান্ধ্য কোর্স। দুই দশকেরও কম সময়ে ৩৫টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ৬৯টি সান্ধ্য কোর্স চালু করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় এসব কোর্স নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠায় ২০১৯ সালে সান্ধ্য কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাইয়ে ডিন পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত বছর সান্ধ্য কোর্স পরিচালন পদ্ধতির বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে এটি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কথা তুলে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। পাশাপাশি নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সব সান্ধ্য কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের সুপারিশ করেন। সে আলোকে এ সুপারিশ আমলে নিয়ে সান্ধ্য কোর্সে ভর্তি সাময়িক বন্ধ করা হয়, যা এখনো বলবৎ রয়েছে।
সান্ধ্য কোর্স পর্যালোচনা ও যৌক্তিকতা যাচাই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩৫টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সান্ধ্য কোর্স আছে। মাস্টার্স, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট, ট্রেনিং কোর্সসহ অনিয়মিত এসব কোর্সের সংখ্যা ৬৯। এর মধ্যে ৫১টি মাস্টার্স, চারটি ডিপ্লোমা, সাতটি সার্টিফিকেট আর সাতটি ট্রেনিং কোর্স। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কোর্সের বাইরে ১০৫টি ব্যাচে এসব কোর্সে বছরে ৭ হাজার ৩০২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের ক্লাস নেন ৭২৫ জন শিক্ষক। সবচেয়ে বেশি সান্ধ্য কোর্স আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে। এ অনুষদের নয়টি বিভাগের প্রতিটিতেই সান্ধ্য কোর্স আছে। এসব কোর্সে প্রতি বছর ৪৫টি ব্যাচে ২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ক্লাস নেন ২৩০ জন শিক্ষক।










