মাছের প্রজনন মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, মজুদ ও ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে সব প্রকার মৎস্য সম্পদের আহরণের ওপর তিন মাসের (মে-জুলাই) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। আজ সকালে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সভায় রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার ফয়েজ আল করিম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) রাঙামাটি নদী উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হায়দার হোসেন, কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণণকেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক মাসুদ আলমসহ মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতারা।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তা, মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী নেতারা কাপ্তাই হ্রদের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় আরো ১০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। এসময় তারা বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত কাপ্তাই হ্রদেও পানি বাড়লেও মাছের আকার বৃদ্ধি পায়নি। এছাড়া এখনো কাপ্তাই হ্রদের পানির রং ঘোলা রয়েছে যা মাছ আহরণের ক্ষেত্রে বড় বাধা। এসময় জেলেরা মাছ ধরার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তাই কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু বিকাশ, মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদের পরিবেশ রক্ষায়ও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর বাড়লেও মাছের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি ঘটেনি। তাই মাছের বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতেই মাছ ধরার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। ১০ আগস্ট মধ্যরাতের পর থেকে মাছ ধরার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, মজুদ এবং হ্রদের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ শিকার বন্ধের নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে জেলা প্রশাসন। তবে চলতি বছর হ্রদের পানি দ্রুত কমে আসায় ২৫ এপ্রিল থেকে মাছ শিকার বন্ধ করা হয়।










