রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন পাঁচ শিক্ষার্থী। টানা ২১ ঘণ্টা ধরে অনশন থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারা। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে গতকাল সকাল ১০টার দিকে স্যালাইন দেয়া হয়।
অবশ্য বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপাচার্য এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করলে অনশন স্থগিত করা হয়। তবে অনশন ভাঙলেও শাটডাউন চলবে বলে জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম অপি বলেন, ‘উপাচার্য স্যার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি সময় চেয়েছেন, তিনি বলেছেন এটা একটা প্রসেসের ব্যাপার, এখানে টেকনিক্যাল কিছু ইস্যু আছে। স্যারের অনুরোধে আমরা অনশন ভেঙেছি, তবে আমাদের শাটডাউন চলবে। আমরা কেউ ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব না। ভিসি স্যার আগামী দুদিন চট্টগ্রাম থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি এসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সে পর্যন্ত আমরা শাটডাউন চালিয়ে যাব।’
এর আগে টানা চারদিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন তারা। রোববার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষার্থীরা। তবে কোনো রকম আশ্বাস না পাওয়ায় আমরণ অনশনে বসেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী রাইসুল মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এক দফা দাবি ছিল, বহিরাগত সভাপতির অপসারণ। আমরা চাই, বিভাগের সভাপতি হবে আমাদের বিভাগ থেকেই। আমরা রোববার প্রশাসনের সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু তারা বহিরাগত চেয়ারম্যানকে বহাল রাখতে চায়। তাই আমরা আবার অনশনে বসেছি। অনশনরত অবস্থায় অসুস্থদের মধ্যে দুজনকে স্যালাইন দেয়া হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘একটা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব সব বিভাগ যেন ভালোভাবে চলে, সেটা দেখা। সেটার জন্য আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা সমাধান বের করার চেষ্টা করছি। একটা সমাধান বের হবে দ্রুতই। এখন ইস্যুটা হচ্ছে এ কাজগুলো করতে গেলে যে সময়টুকু লাগে সেটা তো আমাদের দিতে হবে।’










