নারায়ণগঞ্জে নিহত শাওনকে ফের যুবদল কর্মী দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলীয় কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের অনেক ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। সে যুবদলের প্রমাণিত ও পরীক্ষিত একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন নিহত শাওনকে নিয়ে পুলিশ ও সরকার এখন মিথ্যাচার করছে। 

আজ শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পূর্বগোপাল নগর এলাকায় পুলিশ বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত রাজা আহমেদ শাওনের  পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এসে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি জানান, শাওনকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন, পুলিশের এসপি সাহেব বলেছেন, শাওন যুবদলের কর্মী নয়। সে যুবদলের একজন পরিক্ষিত সক্রিয় কর্মী। তা না হলেও একজন সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যার অধিকার কেউ পুলিশকে দেয়নি। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের কথা শুনে নিরীহ জনগণের ওপর গুলি চালানো আপনাদের দায়িত্ব নয়। আপনাদের অনুরোধ করবো সরকারের অন্যায় কোনো নির্দেশে পালন করবেন না। কোনো-না কোনোদিন আপনাদের জবাবদিহিতা করতে হবে। আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। অন্যায়ভাবে মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারবেন না। পুলিশের দায়িত্ব গণতন্ত্র রক্ষা করা। মানুষকে হত্যা করা নয়। 

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, সরকার সারা দেশে বিএনপির কর্মসূচিতে গুলি করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। গতকাল নারায়ণগঞ্জে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ পাখির মতো গুলি করে শাওনকে হত্যা করেছে। শতাধিক নেতা কর্মী আহত হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক স্বাধীন দেশে এটা চলতে পারেনা।  তিনি বলেন, শুধু শাওন নয়, ভোলার ছাত্রদল নেতা নুরে আলমকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। মানিকগঞ্জ, নড়াইল, নেত্রকোনা, কুমিল্লায়ও পুলিশ হামলা করেছে। আমরা  জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে  যাবো। এসময় অবিলম্বে শাওন হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। অন্যথায় অচিরেই দেশব্যাপী সরকার পতনের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন মির্জা ফখরুল। 

দুপুরে বারোটায় নিহত শাওনের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় বিশ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দীপু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলামসহ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।