বান্দরবানে পাহাড় কাটা কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। গোপনে-প্রকাশ্যে স্থানীয় একাধিক চক্র, জনপ্রতিনিধি এমনকি সরকারি চাকরিজীবীরাও পাহাড় কেটে সাবাড় করছেন। পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট করার অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আইনগত ব্যবস্থাও নিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন। তবু থামানো যাচ্ছে না অবৈধভাবে পাহাড় কাটা।

সম্প্রতি জেলার থানচি উপজেলা সদরে পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নামীয় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এর আগে ২০২০ সালে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে থানচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামংয়ের বিরুদ্ধে পরিবেশ আদালতে মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়। সে বছর একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ওই সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় থোয়াইহ্লামংকে অর্থদণ্ড দেন পরিবেশ আদালত।

সরজমিনে দেখা গেছে, থানচি ব্রিজের আগে প্রধান সড়কের বামদিকে গেছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সড়ক। ইউপি সড়কের ডানদিকে আমতলীপাড়া সড়ক। পাড়া সড়ক ঘেঁষা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক অফিসের পাশে পুরনো কাটা পাহাড়টিতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে নতুনভাবে কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। পাহাড় কাটা স্থানটির বিপরীত পাশে এক্সক্যাভেটরটি সরিয়ে রাখা হয়েছে। যেখানে এক্সক্যাভেটরটি রয়েছে, সেখানেও কম-বেশি পাহাড় কাটা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, পাহাড় কাটা অংশটি উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামংয়ের নামীয় জায়গা, যা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম কাটা হয়। সে সময় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হওয়ার কথা শুনেছি। ১৩-১৫ জুন পর্যন্ত সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত এক্সক্যাভেটর চালক পাহাড়টি কাটছিল। এক্সক্যাভেটরটির মালিক হান্নান নামের এক ব্যক্তি।

সেলফোনে কথা হলে মো. হান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌থানচিতে নির্মাণাধীন একটি স্টেডিয়ামের নিচু জায়গা ভরাট করার জন্য মাটি কাটতে ডেকেছিল থানচির চহাই মারমা। উপজেলা চেয়ারম্যানের পাহাড় থেকে এক্সক্যাভেটরে করে মাটি নিয়ে ট্রাকে ভরে স্টেডিয়ামে ভরাটের কাজও শুরু করি। এক পর্যায়ে জানতে পারি, কয়েক বছর আগে পাহাড়টি কাটার দায়ে চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামংয়ের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা চলমান। এরপর ভয়ে সেখান থেকে মাটি নেয়ার কাজ বন্ধ করে এক্সক্যাভেটর সরানো হয়।’

হান্নানকে দিয়ে পাহাড় কাটার বিষয় স্বীকার করেছেন চহাই মারমা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন থানচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামং মারমা। সেলফোনে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমতলিপাড়া এলাকায় আমার জায়গায় বেড়া দেয়া ছিল। যারা বেড়া ভেঙে আমার জায়গায় প্রবেশ করেছে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

অন্যদিকে থানচি ইউনিয়নের যোগেশপাড়ার কারবারির (পাড়া প্রধান) দোকানের সামনে একটি পাহাড় কাটা চলছে। থানচি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোষাধ্যক্ষ সুরেন্দ্র ত্রিপুরা পাহাড় কাটা মাটি ট্রাকে ভরে নিয়ে পাশের মরিয়মপাড়ায় নিজের পুকুর ভরাট করেছেন। সেলফোনে কথা হলে পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট করার বিষয় স্বীকার করেছেন সুরেন্দ্র ত্রিপুরা। 

অবৈধ পাহাড় কাটা হলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন চৌধুরী। পাহাড় কাটার বিষয় জানা ছিল না বলে জানান থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর।