সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ২০১৭ সালে দেশের ২২টি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে যশোরের মহাসড়কে চলছে থ্রি-হুইলার, নসিমন ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। ঈদ সামনে রেখে এসব যানবাহনের চলাচল বেড়েছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, যশোরে রেজিস্ট্রেশনকৃত থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশার সংখ্যা ৩৩০। এর বাইরে জেলা সদরসহ আট উপজেলায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা চলাচল করছে প্রায় এক হাজার। সেক্ষেত্রে সরকার প্রতি বছর রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

রেজিস্ট্রেশনবিহীন থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা তিন গুণেরও বেশি। ফলে অটোরিকশা খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে প্রতি বছর তার চেয়েও বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অবৈধ গাড়ি নিবন্ধন ও লাইসেন্স পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়ার আওতায় না আসায় সরকার প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা বলছেন, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে এসব অটোরিকশা চলাচল করছে যশোর শহর ও মহাসড়কে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারণেই লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশাগুলোকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তবে বিআরটিএ স্থানীয় কার্যালয় বলছে, তারা জেলার সব অটোরিকশা লাইসেন্সের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে।

বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একেকটি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন পেতে হলে ব্যাংকে জমা দিতে হয় সাড়ে ১১ হাজার টাকা। লাইসেন্স হলে নম্বর পাওয়ার পর রুট পারমিটের (সড়কে চলাচলের অনুমতি) জন্য জমা দিতে হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া লাইসেন্স করতে জমা দিতে হয় ২ হাজার টাকা, ট্যাক্স টোকেন বাবদ দিতে হয় ৪ হাজার টাকা, ইন্স্যুরেন্স বাবদ দিতে হয় ৪৭০ টাকা। সব মিলিয়ে নবায়নসহ প্রতিটি গাড়িতে রাজস্ব দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৫৭০ টাকা। এ হিসাবে নবায়নের খরচসহ ৩৩০টি গাড়ি থেকে রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা। এর সব টাকাই আবার জমা দিতে হয় ব্যাংকে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ যশোর সার্কেলের সহকারী পরিচালক মাহাফুজুর রহমান জানান, বর্তমানে নিবন্ধিত গাড়ি (সিএনজিচালিত অটোরিকশা) রয়েছে ৩৩০টি। নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে আরো প্রায় ১ হাজার অটোরিকশা। 

অনিবন্ধিত গাড়িগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন দেয়ার প্রক্রিয়াটি বন্ধ রয়েছে। জেলা শহরে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি এসব থ্রি-হুইলার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেয়। জেলা প্রশাসক এ কমিটির সভাপতি। বিআরটিএর সহকারী পরিচালক সদস্য সচিব। এছাড়া পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা সদস্য। তবে নতুন রেজিস্ট্রেশনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মিটিংও হয়েছে। আশা করছি, নতুন রেজিস্ট্রেশন প্রদান প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে।’

অবৈধ থ্রি-হুইলার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে আইনগত কী প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাওয়া হলে মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘এগুলো হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নেবে। বিআরটিএ শুধু সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে।’

যশোর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সুবেন্দ কুমার মুন্সি বলেন, ‘‌মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল রোধে আমরা কাজ করছি। আসছে ঈদে সড়কে যাতে তিন চাকার বাহন চলতে না পারে সেজন্য আমাদের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।’