ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের (রেজিস্ট্রার বিল্ডিং) দাপ্তরিক সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে গত ২৪ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। কিন্তু সময়মতো দপ্তরে আসেননি ২৫৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সরজমিনে প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এ চিত্র মেলে।

সরজমিনে দেখা যায়, হিসাব শাখা সকাল ৯টায় তালাবদ্ধ। হিসাব শাখার পরিচালক সাইফুল ইসলামসহ ১৩ জন অনুপস্থিত। সাড়ে ৯টায় উপহিসাব পরিচালক মশিউর রহমানের বিষয়ে জানতে চাইলে একজন কর্মচারী জানান, স্যার আসবেন ১০টার দিকে। ৯টা ২০ মিনিটেও পেনশন শাখার অধিকাংশ চেয়ারই খালি পাওয়া যায়। প্রশাসনিক ভবনের আইসিটি সেলের ১৩টি চেয়ার ফাঁকা। এছাড়া ৩১৩(ক) নম্বর কক্ষে ১১ জন, ৩১৯ নম্বর কক্ষে ১২ জন, ২০৮ নম্বর কক্ষে ১০ জন, ২০৭ নম্বর কক্ষে ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত।

এ সময় নিচ তলার ১২৩ (ক) নম্বর কক্ষে ছয়জনের সবাই, ১২৪ (খ) নম্বর কক্ষে তিনজন, চেক শাখায় চারজন, ১২৪ (গ) নম্বর কক্ষে চারজন, ১২৪ +ঘ নম্বর কক্ষে চারজনের সবাই, ১২৭ নম্বর কক্ষে ১৩ জন, ১১৭ নম্বর কক্ষে তিনজনের সবাই, ১১৬ নম্বর কক্ষের দুজন, ১১৫ নম্বর কক্ষে আটজন, ১১৩ নম্বর কক্ষে একজন অনুপস্থিত ছিলেন।

প্রধান প্রকৌশলী আসেন সাড়ে ৯টায়। সহকারী প্রকৌশলী প্রীতম দত্ত তখনো অনুপস্থিত। একই সময়ে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অফিসে অনুপস্থিত তিনজন, কোষাধ্যক্ষের অফিসে একজন অনুপস্থিত। এছাড়া প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও ই-টেন্ডার রুম, পরীক্ষা উপনিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী, ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-৩) সৈয়াদা মাসুদা আক্তারের কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল।

অফিসের নির্ধারিত সময়ে আসেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তফা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অফিস টাইমে আসেনি এটা কি দেখার দায়িত্ব আপনার? আমি তো রাউন্ডে থাকব। আমার রাউন্ড দিয়ে তারপর অফিসে আসব। আপনি তো এসব কথা জিজ্ঞাসা করতে পারেন না। আপনার কাছে বলারও কিছু নেই।

এ বিষয়ে ঢাবি উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর সবার যথাসময়ে অফিসে আসা নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এখন এটা আবার কিছু কারণে কার্যকর নেই। এটা আসলে কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দায়িত্বের জায়গায় যিনি আছেন তিনি উদ্যোগ নিলে আমরা এটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করব।

যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন অফিসের প্রধানদের বলে দেব, যেন তারা সঠিক সময়ে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করে।