প্রায় ১৭ হাজার দুর্লভ প্রত্ননিদর্শনসমৃদ্ধ বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরটি পরিচালনা করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ না থাকায় গবেষণার অভাবে দেশের প্রথম জাদুঘর প্রত্নসম্পদ হারাতে বসেছে। এ বাস্তবতায় বরেন্দ্র অঞ্চলের সমৃদ্ধ প্রত্নঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং শিগগিরই ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে বিভাগ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের নতুন পরিচালক ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজশাহীতেই প্রথম হওয়া উচিত ছিল, কারণ উত্তরবঙ্গে যেভাবে আর্টিফ্যাক্ট পাওয়া যাচ্ছে, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এত বড় মিউজিয়াম তো আর কোথাও নেই। আমরা আশা করছি দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তখন একটি বিভাগ আলাদাভাবে গবেষণা থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে পারবে।’

১৯৯২ সালে প্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যাত্রা করে। ২০১৩ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও খোলা হয় বিভাগটি। এছাড়া ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব নামে একটি বিভাগ রয়েছে। গবেষণা, সংরক্ষণে এবং উচ্চশিক্ষার এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘গবেষণাভিত্তিক একটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তবু আমরা আশাবাদী। উত্তরবঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব গবেষণার জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান। একটি সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই এ বিভাগ থাকা উচিত। আমরা আমাদের চিন্তাভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।’