ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরীসহ পাঁচজনকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে হল কর্তৃপক্ষের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে তাদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। অন্যরা হলেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তাবাসসুম ইসলাম ও মাওয়াবিয়া জাহান, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মীম ও চারুকলা বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মী।
ছাত্রী নির্যাতনের এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। ইবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মনিরুজ্জামান মিল্টন গতকাল ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়ের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। যত দ্রুত সম্ভব সেটি নির্ধারিত বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই নির্যাতনের পরদিনই অ্যাডভোকেট গাজী মো. মোহসীন ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনেন। তখন আদালত ওই আইনজীবীকে বিস্তারিত বিবরণসহ রিট দায়ের করতে আদেশ দেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব, ইবির ভিসি, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে ১৬ ফেব্রুয়ারি রিট দায়ের করেন। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয় তাতে। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ ঘটনা তদন্তে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের কমিটিতে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন শিক্ষককে রাখতে বলা হয় এবং পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে আমরা দুপুর ১২টায় মিটিং করি। প্রতিবেদনে পাঁচ অভিযুক্তের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই আমরা তাদের আবাসিকতা বাতিল করেছি।’
এদিকে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে ছাত্রলীগের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও। এ বিষয়ে কমিটি গত রোববার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে ই-মেইলে তাদের প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী বণিক বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মুখ খুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কেবল জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশে তারা ঘটনাটি তদন্ত করেছেন এবং প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছেন।
ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন এমন কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু কিছু বিষয়ে ওই নির্যাতিত ছাত্রীর করা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কোন কোন বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে—জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের ওই নেতা জানান, প্রভোস্টের মধ্যস্থতায় মেয়েটি হলে থাকার অনুমতি পাওয়া সত্ত্বেও ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী তাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছেন। তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে ‘মিস বিহেভ’ করেছেন।
তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘সবার বক্তব্য শোনার পর মনে হয়েছে ওই মেয়েটির সঙ্গে যা ঘটেছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ কে হলে উঠল, কে থাকল এসব মনিটরিং করা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাজ নয়। এ ঘটনায় আমরা নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুন্সি কামরুল হাসানকে আহ্বায়ক এবং দুই সহসভাপতি বনি আমিন ও রাকিবুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনকে সদস্য করে ১৫ ফেব্রুয়ারি কমিটি গঠন করা হয়। গত রোববার ছিল তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার শেষ সময়।
এ ব্যাপারে পাবনায় নিজ বাড়িতে অবস্থানরত নির্যাতিত ছাত্রী জানান, ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি তার কাছে ঘটনার বিবরণসহ কয়েকটি বিষয় জানতে চেয়েছিল। তিনি সেভাবেই বলেছেন।










